আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা কমাতে শান্তিপ্রস্তাব দেয় ইরান। সেখানে একাধিক শর্ত সামনে আনে তেহরান। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালীর উপর পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করার দাবি জানিয়েছিল তেহরান।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে।
Advertisement
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, তেহরানের প্রতিক্রিয়া তাঁর “একেবারেই পছন্দ হয়নি”। পাশাপাশি ইরানকে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে “খেলা করার” অভিযোগও তোলেন তিনি।
Advertisement
অন্য দিকে, ইরান জানিয়েছে তারা মার্কিন “অযৌক্তিক দাবি” মেনে নেবে না। তেহরানের বক্তব্য, তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘দেশ কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না’।
সংঘাতের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তেহরান সীমিত সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে প্রস্তুত থাকলেও কোনও পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করতে রাজি নয়। এই অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য আরও বাড়িয়েছে।
এ দিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাঁর বক্তব্য, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ এখনও রয়ে গিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দেশগুলির জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করলে তারা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। অন্য দিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলা ও নৌ নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
গত মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও বাস্তবে সংঘাত ও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েল ও হিজবুল্লার সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
Advertisement



