• facebook
  • twitter
Monday, 11 May, 2026

ডলার সাশ্রয়ের জন্যই সোনা কেনায় সাময়িক বিরতি চায় কেন্দ্র

ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা আমদানি হয়, অথচ দেশীয় উৎপাদন মাত্র ১ থেকে ২ টনের মতো

বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয় কেন্দ্রকে। এই আমদানি খরচে লাগাম টানতেই আগামী ১ বছর সোনা কেনায় রাশ টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেই কারণেই সোনা কেনার ক্ষেত্রে দেশবাসীকে সাময়িক সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারত বিদেশ থেকে যত পণ্য আমদানি করে থাকে তার ৯ শতাংশই হল সোনা।

বিদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয় অপরিশোধিত তেল। তার পরেই রয়েছে সোনা। অর্থনৈতিক সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভে কয়েকশ কোটি ডলার হ্রাস ঘটে। এর বড় কারণ হলো আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল ও সোনা, এই দুই পণ্যের আমদানি দেশের ডলার ব্যয়ের বড় অংশ দখল করেছে।

Advertisement

ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা আমদানি হয়, অথচ দেশীয় উৎপাদন মাত্র ১ থেকে ২ টনের মতো। ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করতে হয় বিদেশ থেকে। অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সোনা আমদানি হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকার সমান। আগের বছরের তুলনায় এই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ আমদানির জন্য ডলার ব্যয় হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

Advertisement

সরকারের মতে, সোনা সরাসরি শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না। অথচ এই সোনা আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বা তুলনামূলক কম জরুরি আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী এক বছর সামাজিক অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য সোনা কেনায় সংযম দেখানোর অনুরোধ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, অতীতে সঙ্কটের সময় দেশের স্বার্থে জনগণ সোনা দান করলেও, বর্তমান সময়ে অন্তত নতুন করে সোনা না কিনে অর্থনীতিকে সহায়তা করা যেতে পারে।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে অর্থাত ১ মের আগে পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ৭৭৯ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার কমে গিয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। তার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার এখন হয়েছে দেশে ৬৯,০৬৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে তেলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে আমদানির খরচও। আমদানি-রফতানি ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে। তার ফলে চাপ পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আপাতত এক বছর সোনা কিনতে বারণ করেছেন। মোদীর অনুরোধ, বাড়িতে যা-ই অনুষ্ঠান থাকুক, আগামী এক বছর কোনও সোনার গয়না কেনা চলবে না। প্রধানমন্ত্রীর কথায় বলেন, ‘ আগামী এক বছর বাড়িতে যে অনুষ্ঠানই হোক, আমরা সোনার গয়না কিনব না— দেশহিতে আমাদের এই সঙ্কল্প করতে হবে। আমরা সোনা কিনব না, বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে।’

২০২৬-এর জানুয়ারি মাসে বিদেশ থেকে প্রায় ১০০ টন সোনা আমদানি করেছিল ভারত। ফেব্রুয়ারি মাসে তা কমে হয়েছে ৬৫ থেকে ৬৬ টন। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত শুরুর পর মার্চ মাসে ভারতের সোনা আমদানি কমে দাঁড়ায় ২০ থেকে ২২ টন। এপ্রিলে ভারত সোনা আমদানি করে ১৫ টন। করোনাকাল ছাড়া গত ৩০ বছরে ভারতের সোনা আমদানি এত কম হয়নি।

Advertisement