• facebook
  • twitter
Tuesday, 24 February, 2026

পুলিশ ভ্যানে হামলা, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিহত ৬ পুলিশকর্মী সহ ৭ জন

পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের জঙ্গি হামলায় রক্ত ঝরল। কোহাট জেলায় পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন পুলিশকর্মী এবং একজন বন্দি, যাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার সময় পুলিশ ভ্যানে দুইজন বন্দিকে আদালতে হাজিরার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আচমকাই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা ভ্যানটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন একজন ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট, একজন ইন্সপেক্টর এবং চারজন কনস্টেবল। বন্দিদের মধ্যে একজন প্রাণ হারান। হামলার পর দুষ্কৃতীরা ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

Advertisement

এই হামলার একদিন আগেই একই প্রদেশের কারাক জেলার বদরাখাইল এলাকায় আহত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি অ্যাম্বুল্যান্সেও হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ৩ জন ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি সদস্য নিহত হন। জানা গিয়েছে, তার আগে একটি নিরাপত্তা পোস্টে কোয়াডকপ্টার ড্রোন হামলায় কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছিলেন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুল্যান্স লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন আহত হন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, এর আগেও ১৬ ফেব্রুয়ারি বাজাউর জেলায় একটি যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণে চৌকিটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। আশপাশের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় একজন শিশুরও মৃত্যু হয় এবং একাধিক সাধারণ মানুষ আহত হন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে পাকিস্তান সরকার এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে লঙ্ঘনের পর থেকেই দেশে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালোচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

হামলার পর পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Advertisement