• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 8 September, 2026

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রোজগেরে প্রধানমন্ত্রীর এবার ৬০% স্যালারি হাইক, একলাফে বাড়ছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা

১৫ বছর পর সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং-এর বেতন বাড়ছে বিপুল। বাড়তি টাকা দান করার ঘোষণাও করেছেন তিনি। তবু জমাট বাঁধছে বিতর্ক...

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রোজগেরে প্রধানমন্ত্রীর এবার ৬০% স্যালারি হাইক, একলাফে বাড়ছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা

Highest paid world leader to get salary increase of $1 million (Representative Image: Magnific)

১৫ বছরে প্রথমবার। অবশেষে সিঙ্গাপুরের (Singapore) মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীদের বাড়ছে বেতন। যার জেরে যিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভুক রাজনৈতিক নেতা, সেই প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং-এর (Lawrence Wong) আয় এবার আরও ফুলেফেঁপে উঠতে চলেছে। অঙ্কটা শুনলে চোখ কপালে উঠবে।

কত বাড়ছে বেতন

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে (Parliament) সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ওং-এর বার্ষিক বেতন প্যাকেজ বাড়বে ১৪ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা)। বর্তমানে তাঁর বেতন ২২ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার। নতুন কাঠামোয় তা গিয়ে দাঁড়াবে ৩৬ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ২৮ লক্ষ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ২৬ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায়। বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশেরও বেশি।

শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, মন্ত্রীদের ন্যূনতম বেতনসীমাও (এমআর৪ গ্রেড) ১১ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ১৮ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলার হতে চলেছে। বর্তমান মন্ত্রীরা অবশ্য একলপ্তে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। বেতনের রেঞ্জও (স্যালারি রেঞ্জ) বাড়িয়ে রেফারেন্স স্যালারির ৭৫ থেকে ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে, যাতে পারফরম্যান্স অনুযায়ী কম-বেশি করা যায়।

দান করবেন

চমকপ্রদ বিষয় হল, লরেন্স ওং জানিয়েছেন, তাঁর বেতনবৃদ্ধির পুরো টাকাটাই তিনি আগামী পাঁচ বছর ধরে দাতব্য কাজে দান করে দেবেন। এই একই পথ অনুসরণ করেছিলেন তাঁর পূর্বসূরি লি সিয়েন লুং (Lee Hsien Loong), ২০০৭ সালে।

কেন বাড়ছে বেতন

ওং-এর যুক্তি, রাজনীতিতে যোগ্য প্রতিভা টেনে আনতে গেলে বেতন প্রতিযোগিতামূলক রাখতেই হবে। সরকার বরাবরই বলে এসেছে, মোটা বেতন দিলে দুর্নীতির প্রলোভন কমে, আর সিঙ্গাপুর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (Transparency International) দুর্নীতি-সূচকে বরাবরই শীর্ষে থাকে, এটাই তার প্রমাণ বলে দাবি সরকারের। ওং নিজেও স্বীকার করেছেন, পুরনো কাঠামো অপরিবর্তিত রাখাই রাজনৈতিকভাবে সহজ পথ হত, কিন্তু সেটা ঠিক কাজ হত না বলেই তাঁর মত।

শেষ বার এই বেতন কাঠামো ঠিক হয়েছিল ২০১১ সালের পর্যালোচনায়, যদিও যেখানে জনরোষের চাপে মন্ত্রীদের বেতন ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছিল। ২০১৭ সালে ফের বৃদ্ধির সুপারিশ এলেও তা কার্যকর হয়নি, আর ২০২৩ সালের পর্যালোচনা পিছিয়ে যায় পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে।

সমালোচনার মুখে সরকার

তবে সময়টা মোটেই স্বস্তির নয়। সিঙ্গাপুরে বসবাসের খরচ ক্রমশ বাড়ছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে চাকরি ছাঁটাইয়ের হারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের বেতনবৃদ্ধির খবরে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সমাজমাধ্যমে অনেকেই এই সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিঙ্গাপুরে মাসিক গড় আয় যেখানে মাত্র ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলারের আশপাশে, সেখানে একজন নবাগত জুনিয়র মন্ত্রীর বার্ষিক বেতনই কয়েক লক্ষ ডলার, এই ফারাকটাই মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে ১৫ অক্টোবর থেকে। বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক হবে ১০ সেপ্টেম্বর, তবে বিশেষ নিয়মের (স্ট্যান্ডিং অর্ডার ৪৪) আওতায় সেখানে কোনও সংশোধনী বা ভোটাভুটির সুযোগ থাকছে না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি