পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হিংসা, গুলিচালনা এবং কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। এর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে হামলা, ব্যালট বাক্সে আগুন লাগানো, বুথ দখল এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও।
সোমবার মিরপুর বিভাগের ১৩টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়। এর আগেই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে প্রায় দু’মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। অভিযোগ, ভোটের দিন রাওয়ালকোটে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালায়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওয় রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় বহু মানুষকে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। যদিও সেই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গিয়েছে, সোমবার প্রথম ধাপের ভোটকে কেন্দ্র করে পিওকের জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি আয়োজিত ‘লং মার্চ’ চলাকালীন সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণ হয়। নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে পৌঁছয়। এছাড়া আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হন, যাঁদের অনেকের অবস্থা সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে জেএএসি জানায়, লং মার্চ রাওয়ালাকোট শহরে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা গিয়েছে। এছাড়া একজনের মাথায় গুলির আঘাত পাওয়া গিয়েছে। তবে তাঁর এখনও পর্যন্ত কোনও পরিচয় মেলেনি। তাঁর দেহ পালান্দ্রি হাসপাতালে রয়েছে। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটির সমর্থকদের অভিযোগ, রাওয়ালাকোটে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
অশান্তির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে রাওয়ালকোট, কোটলি, ভিম্বার এবং নিকিয়াল এলাকায়। ভিম্বারের একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোটলির নিকিয়ালে সংঘর্ষে পাকিস্তান পিপলস পার্টির কর্মী মুখতার ইউনুস নিহত হন। এই ঘটনার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছে পিপিপি।
ভোটের পর নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, প্রথম দফার ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ বা পিএমএল-এন। বাকি ৪টি আসন পেয়েছে পিপিপি। তবে ফল ঘোষণার পরই একাধিক কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ তোলে পিপিপি। দলের দাবি, অন্তত ৭টি আসনে তাদের নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ব পিটিআই ভোট শুরুর আগেই নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তা বয়কট করেছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ অবশ্য কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই হয়েছে। এ বার প্রথমবারের মতো একদিনে ভোট না করিয়ে তিন দফায় নির্বাচন করছে পাকিস্তান। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিনের অশান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৪৫টি সাধারণ আসনে ২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় ভোট হবে। মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ।




