ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সম্প্রতি সর্বত্র এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে। ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমেও এ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইজরায়েলের একটি চ্যানেলের দাবি, ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ খামেনিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে ‘জেরুজালেম পোস্ট’ একটি ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘ইরানওয়্যার’ এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে খবর প্রকাশ করেছিল। যদিও ইরান সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেনি।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরই সর্বোচ্চ নেতার পদে বসেন মুজতবা। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই তিনি এতদিন ধরে বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং দেশের কোথায় তিনি রয়েছেন তা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বেড়েছে।
প্রতিবেদনগুলিতে দাবি করা হয়েছে, বাবার উপর হামলার সময় মুজতবাও আহত হয়েছিলেন। এমনকী তাঁর মুখে গুরুতর আঘাত লেগে থাকতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রের দাবি। নিরাপত্তার কারণে তিনি আত্মগোপন করে রয়েছেন এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বদলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পাঠাচ্ছেন বলেও খবর।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, বর্তমানে খামেনির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা ‘খুব কঠিন’। জুলাইয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথ দাবি করেছিল, তিনি ইরানেই নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব প্রায় নিশ্চিহ্ন এবং খামেনি ‘৯০ শতাংশ শেষ’। তবে ইরানের সরকারি মহল একাধিকবার তাঁর গুরুতর অসুস্থতার খবর খারিজ করেছে।
আরও পড়ুন: ৪৭১টি Boeing 737 MAX বিমানে জরুরি পরিদর্শনের নির্দেশ এফএএ-র, ভারতে কটি রয়েছে জানেন?
সরকারি সূত্রের মতে, শারীরিকভাবে আড়ালে থাকলেও তিনি এখনও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সামরিক নির্দেশ দিচ্ছেন। ফলে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর সত্যি কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে।




