সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে একটি ক্যাফেয় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের ব্যস্ত এলাকা প্যালেস অফ জাস্টিসের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে। গত বছর একটি গির্জায় আত্মঘাতী হামলার পর এটিই রাজধানীতে সবচেয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা। যদিও হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্যাফের ভিতরে আগে থেকেই একটি হাতে তৈরি বিস্ফোরক বা আইইডি পুঁতে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরকটিতে ধাতব খণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। আহতদের উদ্ধার করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় একাধিক অ্যাম্বুলেন্স।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর খায়াত জানান, বিকেল প্রায় ৩টে নাগাদ প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে তাঁর দোকান কেঁপে ওঠে। অন্য এক দোকানদার মোহাম্মদ আল-দাহাবি বলেন, বিস্ফোরণের পর ক্যাফেতে গিয়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় বহু মানুষকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর কথায়, এই দৃশ্য প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময়ের ভয়াবহ বোমা হামলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনের পর দামেস্কের গভর্নর মাহের এলদিবি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, সিরিয়ায় যখনই স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দেখা যায়, তখনই কিছু গোষ্ঠী তা নষ্ট করে দেয়।
এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। এছাড়াও তুরস্ক, ইরাক, জর্ডন, কাতার, মিশর, আরব লিগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি এর নিন্দা জানিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ দূত ক্লদিও কর্ডোন বলেছেন, এই হামলার জন্য দায়ী যারা, তাদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ঘটনাস্থলে থেকে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-এর ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে নতুন সরকার দেশে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু গত এক বছরে দামেস্কে একাধিক হামলার ঘটনা সেই প্রচেষ্টার সামনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০২৫-এর জুনে একটি গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় ২৫ জন নিহত হন। সেই ঘটনার জন্য ইসলামিক স্টেটকে দায়ী করেছিল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এই বিস্ফোরণের পর ফের সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।




