ঝাঁ চকচকে শহর ব্যাঙ্কক এখন কার্যত জলের তলায়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে প্রায় গোটা শহর এখন জলমগ্ন। কোথাও হাঁটু সমান ও কোথাও আবার কোমর সমান জল। তবে ধীরে ধীরে জল নামতে শুরু করেছে। সোমবারও শহরের বেশ কিছু এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলের নীচে ছিল।
ব্যাঙ্কক ফ্লাড কন্ট্রোল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের বন্যায় প্রায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। শহরের ৫০টি জেলাতেই বন্যার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন গভর্নর চ্যাডচার্ট সিত্তিপুন্ট। প্রায় সাত হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্ব ব্যাঙ্ককের বিভিন্ন এলাকা। রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল হাঁটুসমান জল পেরিয়ে একটি বন্যাকবলিত আবাসিক এলাকায় যান। সেখানে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। জল ঠেলেই রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন অনেকে। বহু মানুষ জলের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিতে রাস্তায় বেরিয়েছেন। কেই কেউ ছোট নৌকায় চড়ে স্টেশন থেকে যাতায়াত করছেন।
৫৫ বছর বয়সী নাওয়ারাত সুপানিকর্নের বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। তিনি ৩টি কুকুর ও ৬টি বিড়াল নিয়ে সেখানে থাকেন। শনিবার রাত দেড়টার দিকে ঘরে জল ঢুকতে দেখে তিনি পোষ্যদের প্রতিবেশীর কাছে রেখে আসেন। বন্যার কারণে নাওয়ারাত তার চাকরিও হারিয়েছেন। তিনি জানান, কর্মস্থলে যেতে না পারায় তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে। এখন তিনি খাবার তৈরি করে রাস্তায় তা বিক্রি করে আয় করার চেষ্টা করছেন। তবে বন্যার কারণে ক্রেতাও কম।
বন্যার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহণ ব্যবস্থাতেও। খাবার-সহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক কর্মী কর্মস্থলে পৌঁছতে পারছেন না। ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক যাত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বন্যার জেরে থাই এয়ারওয়েজের অনেক কর্মী বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেননি। টার্মিনালে লাগেজের স্তূপ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে থাই বিমানবাহিনী ৬৯ জন কর্মী পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে বাজারের কাছে বিমান হামলা, নিহত ৪৯, আহত ৫৮
এদিকে ব্যাঙ্ককের আবহাওয়া দপ্তর বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। উত্তর, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের আকস্মিক বন্যা, নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি ও ভূমিধসের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।




