• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 29 September, 2026

মিয়ানমারে বাজারের কাছে বিমান হামলা, নিহত ৪৯, আহত ৫৮

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই সেখানে সংঘাত চলছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

মিয়ানমারে বাজারের কাছে বিমান হামলা, নিহত ৪৯, আহত ৫৮

Photo: X

মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে একটি বাজারের কাছে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে এয়ার স্ট্রাইকে হামলায় ৫৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার ক্যায়াকটাউ টাউনশিপে এই হামলা চালানো হয়। ওই এলাকা বর্তমানে আরাকান সেনাবাহিনীর শাসনে রয়েছে। আরাকান সেনা সূত্র মারফত এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরাকান সেনা এই বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে। সোমবার দুপুরের দিকে একটি যুদ্ধবিমান বাজারের কাছে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। তাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে বাজারের বিক্রেতা, ক্রেতা ও পথচারীরাও রয়েছেন। আহত ৫৮ জনের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা গুরুতর।

রাখাইনে উদ্ধারকাজে নিযুক্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক ওয়াই হুন আউং হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই বাজারটি ছিল এলাকার অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার। রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে আসতেন।

সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতে হামলার পর আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও একটি আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়া সেতু দেখা গিয়েছে। হামলার পর আরকান সেনা জানিয়েছে, যারা এই হামলার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনও তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেননি।

সেনার তরফে জানানো হয়েছে, কে বা কারা এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তারা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই সেখানে সংঘাত চলছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: মানবসেনার বদলে রোবট, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নতুন কৌশল

রাখাইন রাজ্যে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে আরাকান সেনা। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তারা সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তারা। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক বাহিনীর বাণিজ্যপথে বিধিনিষেধের কারণে রাখাইনে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও বেড়েছে।