হরমুজ ঘিরে আবার উত্তেজনা ছড়াল। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সদ্য হওয়া শান্তি সমঝোতার পর এই প্রথম হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠল ইরানের বিরুদ্ধে। সংবাদসংস্থা এবং সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মার্কিন অফিসাররা দাবি করেন বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’-কে লক্ষ করে হামলা চালায়।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস্ বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের দাহিত বন্দরের প্রায় ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে চলার সময় আকাশ থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ভারী বস্তুর আঘাতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে জাহাজে থাকা কোনও নাবিক আহত হননি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাতেই জাহাজটি যাত্রা চালিয়ে যায়।
এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন সিঙ্গাপুরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ফলে এই হামলাকে সেই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম বড় ধাক্কা বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের আধাসামরিক নৌবাহিনী এবং পরে পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ বা পিজিএসএ সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, তেহরানের অনুমোদিত পথ অনুসরণ না করে কোনও জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলে তার নিরাপত্তার দায় ইরান নেবে না। এমনকী অনুমোদিত নয় এমন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। হামলার পর সেই সতর্কবার্তা আরও জোরালোভাবে আবার জানায় পিজিএসএ।
এর আগেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ঘোষণা করেছিলেন, ‘হরমুজ আর কখনও যুদ্ধ-পরবর্তী অবস্থায় ফিরবে না।’ এরপরেই হামলার ঘটনায় তেহরান নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, ইরানের নির্দেশ না মানার ‘শাস্তি’ হিসেবেই কি জাহাজটিকে নিশানা করা হল?
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধীন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বা আইএমও হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা শতাধিক জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে আনার উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইএমও-র মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান বন্ধ থাকবে। শান্তি আলোচনার আবহের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে এই হামলা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত সত্যিই কি শান্তির পথে, নাকি আপাত শান্তির আড়ালে অস্থিরতার অব্যাহত রয়েছে? উত্তর খুঁজছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।




