কানাডার টরন্টোয় প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুন করা হল ২৬ বছর বয়সের ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণী নভনীত কৌরকে। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সের শরণজিৎ সিং নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি খুন এবং আদালতের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
টরন্টো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিট নাগাদ হাম্বারউড বুলেভার্ড ও রেক্সডেল বুলেভার্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে গুলির খবর আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নভনীত কৌরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নভনীত সকালে রাস্তায় হাঁটছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে নাম ধরে তাঁকে ডাকেন অভিযুক্ত। দু’জনের মধ্যে অল্প কিছুক্ষণ কথা হওয়ার পর আচমকাই শরণজিৎ গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তরুণী। এরপর অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের আরও দাবি, গুলি চালানোর আগে তাঁদের মধ্যে কোনও রকম বাগবিতন্ডা বা ধস্তাধস্তিও হয়নি।
অভিযুক্তকে ধরতে ড্রোন, কে-৯ ইউনিট এবং বিশেষ পুলিশ দল নিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে শরণজিৎ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এটি একটি ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা। তবে কী কারণে এই খুন? অভিযুক্ত ও নিহতের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল? তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনার তদন্ত করছে টরন্টো পুলিশের হোমিসাইড ইউনিট।
ঘটনার তদন্তে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর টরন্টোর ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তদন্তে সাহায্য করতে ঘটনার বিষয়ে কোনও তথ্য থাকলে পুলিশ বা ক্রাইম স্টপার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদন জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই কানাডার এডমন্টনে ২৩ বছর বয়সের ভারতীয় পড়ুয়া দমনপ্রীত কৌরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। সেই ঘটনায় তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী রীতিশ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছিল কানাডা পুলিশ। একের পর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় কানাডায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।




