আরও এক ভারতীয়কে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কানাডায়। ৩৭ বছর বয়সী মৃত ওই ব্যক্তির নাম চন্দনকুমার রাজা নন্দকুমার। চন্দনকুমার কর্নাটকের বাসিন্দা। তিনি কর্মসূত্রে গ্রেটার টরন্টো এলাকার ব্র্যাম্পটনে থাকতেন। তাঁকে টরন্টোয় একটি শপিং মলের বাইরে গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। এখনও পর্যন্ত আততায়ীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ হামলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় তিনি শপিং মলের সামনে নিজের গাড়ির ভিতরেই বসেছিলেন। সেই সময় আচমকা একাধিক হামলাকারী সেখানে এসে চন্দনকুমার এবং তাঁর গাড়িকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এর পরের মুহূর্তেই তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় টরন্টো পুলিশ। চন্দনকুমারের শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লেগেছিল বলে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
Advertisement
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ধরন ও পদ্ধতি দেখে সন্দেহ করা হচ্ছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনও ঘটনা। এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আততায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে খুনের নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
Advertisement
চন্দনকুমারের বাবা নন্দকুমার বলেন, ‘গত শুক্রবারই ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। বলেছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবে। ওর বিয়ের কথাও চলছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।’ পরিবারের কিছু সদস্যের সন্দেহ, টরন্টোয় কন্নড় অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলার উদ্যোগের সঙ্গে এই খুনের যোগ থাকতে পারে। যদিও পুলিশ এই বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানায়নি।
চন্দনকুমারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে চন্দনকুমারের দেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতেও কানাডায় এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক দিলরাজ সিংহ গিল গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। তিনি ভ্যাঙ্কুভারের বাসিন্দা ছিলেন।
উল্লেখ্য, কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর প্রায় ছ’বছর আগে কানাডায় পাড়ি দেন চন্দনকুমার। সেখানে একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিক বার দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন চন্দন। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে তা পিছিয়ে যায়। নন্দকুমারের আক্ষেপ, ‘ও যদি আগেই দেশে ফিরে আসত, তা হলে আজ এই দিন দেখতে হত না।’
Advertisement



