এক সাংবাদিককে খুনের পর সেই একই রাতে ফের হত্যা করা হল এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে। নিহতের নাম শরৎমণি চক্রবর্তী। সোমবার রাত প্রায় ১১ টা নাগাদ পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে মুদিখানার দোকানের মালিক শরৎমণি চক্রবর্তীর উপর হামলা চালায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। শেষ পাওয়া খবরে দুষ্কৃতীদের পরিচয় জানা যায়নি। পলাশ থানার ওসি শাহিদ আল মামুন বলেছেন, ‘হত্যার কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। আশা করছি তদন্ত দ্রুত শেষ হবে।’
দীপু দাস, খোকন দাস, রানা প্রতাপ বৈরাগীর পর এবার মুদিখানার দোকানের মালিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের নরসিংদী শহরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওইদিন রাতে মণি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় চরসিন্দুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় তাঁর ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই অস্ত্রগুলি স্থানীয় বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ব্যক্তি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের অনুমান, শরতকে পিছন দিক থেকে আক্রমণ করা হয়। ফলে আত্মরক্ষা করার কোনও সুযোগই তিনি পাননি। পলাশ থানার ওসি জানিয়েছেন, মৃতের দেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Advertisement
কেন, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা এখনও স্পষ্ট নয়। পলাশ থানার ওসি জানিয়েছেন, মণি চক্রবর্তী শিবপুর উপজিলার সাধারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মদন ঠাকুরের ছেলে। চরসিন্দুর বাজারে তাঁর মুদির দোকানটি দীর্ঘদিনের। তাঁকে নিয়ে পরপর ৩ জন হিন্দু ব্যবসায়ী খুনের ঘটনা ঘটল বাংলাদেশে।
ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে হত্যা করে একদল জনতা। বেধড়ক মারধর করার পর তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রাজনীতি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়ে। ভারতের তরফে এই হত্যার চরম নিন্দা করা হয়। এরপর বছরের শেষ দিনে ফের এক হিন্দুর উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। শরিয়তপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় খোকন দাস নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর গায়ে। প্রাণে বাঁচতে তিনি পুকুরে ঝাঁপ দেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মৃত্যু হয় তাঁর।
সোমবার বাংলাদেশের যশোরে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে, গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ওই রাতে যশোর জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় এক হিন্দু ব্যবসায়ীর। তাঁর নাম রানা প্রতাপ বৈরাগী। তিনি একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই হত্যার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের নরসিংদী শহরে মুদির দোকানের মালিক শরৎমণি চক্রবর্তীর উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ ও হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘও। কিন্তু তারপরও অব্যাহত রয়েছে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। বাংলাদেশে বছর ৪০-এর এক হিন্দু মহিলাকে গণ-ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে ২ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই মহিলাকে গাছে বেঁধে তাঁর চুলও কেটে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধেয় শাহিন ও তার সঙ্গী হাসান ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে। তারপরে তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় অভিযুক্তরা তাঁর আত্মীয়দের নিগ্রহ করে বলে অভিযোগ। মহিলা চিৎকার শুরু করলে, অভিযুক্তরা তাঁকে একটি গাছে বেঁধে তাঁর চুল কেটে দেয়। সেই ঘটনা তারা রেকর্ডও করে। পরে তা সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর উপর ফের অত্যাচার চালানো হয়।তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে জনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা যায় যে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই মহিলা কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
Advertisement



