• facebook
  • twitter
Thursday, 5 March, 2026

রাজ্যসভায় নীতীশ কুমার, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে? জোর জল্পনা!

২০০৫ সালে প্রথমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। এরপর রাজ্যের রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতনের মধ্যেও তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে থেকেছেন।

বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ঘোষণার পর। তিনি জানিয়েছেন, এবার তিনি রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্যে পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জোটসঙ্গী বিজেপি ও জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর মধ্যে নীরব টানাপোড়েনের ইঙ্গিতও সামনে আসছে।

নীতীশ কুমার সমাজমাধ্যমে একটি বার্তায় জানিয়েছেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমি রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার জন্য প্রার্থী হতে চাই। নতুন যে সরকার গঠিত হবে, তাকে আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা ও দিকনির্দেশ দেব।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— যদি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন।

Advertisement

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে বিজেপি ও জনতা দল (ইউনাইটেড) দুই পক্ষই সতর্কভাবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। বিজেপি চাইছে রাজ্যের নেতৃত্বে নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করতে। অন্যদিকে জনতা দল (ইউনাইটেড) কোনওভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিজেদের হাতছাড়া করতে চাইছে না।

Advertisement

দলের ভিতরে নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর পদ বিজেপির হাতে গেলে দলের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যেতে পারে। তাই দলের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার পক্ষে মত জোরালো হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দু’টি নাম বেশি করে ঘুরছে— নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমার এবং রাজ্যের বরিষ্ঠ মন্ত্রী বিজয় চৌধুরী। ইতিমধ্যেই দলের তরফে জানানো হয়েছে, নিশান্ত কুমার সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকাকে ইস্যু করতে পারে বিজেপি।

অন্যদিকে বিজয় চৌধুরীকে নীতীশ কুমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দলের অনেক নেতা মনে করেন, প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিনিই শক্তিশালী বিকল্প হতে পারেন।

তবে জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর নেতাদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত কোনও লবি বা জোটের চাপে নেওয়া হবে না। দলের ভিতরে নেতৃত্বের প্রশ্নে শেষ কথা বলেন নীতীশ কুমারই। ফলে শেষ পর্যন্ত কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা নির্ভর করছে তাঁর সিদ্ধান্তের উপরেই।

এদিকে বিজেপি এখনও প্রকাশ্যে কোনও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের বিকল্প খোলা রাখতে পারে।

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখা হবে। জোটের ভিতরের সূত্র বলছে, বিজেপি চাইছে বিষয়টি যেন তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হিসেবেই সামনে আসে। এতে জোটের ভিতরে স্থিতি বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে পাটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর কর্মীদের জমায়েত দেখা যায়। তাঁরা নীতীশ কুমারের সমর্থনে স্লোগান দেন। অনেক কর্মীরই দাবি, বিহারের মানুষ তাঁর নেতৃত্বেই ভোট দিয়েছেন, তাই তিনিই যেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যান।

এক কর্মীর কথায়, ‘গ্রাম থেকে গ্রাম আমরা নীতীশ কুমারের নামেই প্রচার করেছি। ভোটে জয়ের পর এত দ্রুত যদি তিনি সরে দাঁড়ান, তাহলে মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে।’

পঁচাত্তর বছর বয়সী নীতীশ কুমার সমকালীন ভারতের অন্যতম অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা। জনতা দল থেকে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরে জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে তিনি সমতা পার্টি গঠন করেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০০৫ সালে প্রথমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। এরপর রাজ্যের রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতনের মধ্যেও তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে থেকেছেন। ২০১৩ সালে বিজেপির সঙ্গে জোট ভাঙেন, আবার ২০১৭ সালে সেই জোটে ফেরেন। ২০২২ সালে আবার বিরোধী শিবিরে যান এবং ২০২৪ সালে ফের বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে ফিরে আসেন।

২০২৫ সালে জোটের জয়ের পর তিনি দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এখন তিনি রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় বিহারের রাজনীতিতে আবার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Advertisement