মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তাল ফ্রান্স। এই বিক্ষোভের নেপথ্যে মুসলিম শরণার্থীদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে প্যারিসের রাস্তায় আন্দোলনকারীদের মুখে শোনা যাচ্ছে এক অদ্ভুত স্লোগান—‘বিসমিল্লাহ সে লে তেনেব্রে’। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, এমনকি মুখে মুখেও ছড়িয়ে পড়েছে এই শব্দবন্ধ। পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের মুখেও শোনা গিয়েছে স্লোগানটি। কিন্তু কী এর অর্থ? কীভাবেই বা একটি বার্তা আন্দোলনের অন্যতম স্লোগানে পরিণত হল?
জানা যাচ্ছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে স্ন্যাপচ্যাটে আন্দোলনকারীদের একটি গোষ্ঠীতে মামাদু নামে এক ব্যক্তি একটি বার্তা পাঠান। ইংরেজিতে লেখা সেই বার্তার অর্থ ছিল, ‘ঈশ্বরের নামে, চারদিকে অন্ধকার। অবরোধটা কবে, ভাই?’ বার্তার সঙ্গে ছিল আলজেরিয়ার পতাকার প্রতীক। অন্য কয়েকটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, একই ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে পড়ুয়াদের অবরোধের স্থান এবং আতশবাজি ও ধোঁয়া তৈরি করা গ্রেনেড কোথায় পাওয়া যায়, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
এই বার্তা ঘিরেই তৈরি হয় বিতর্ক। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, ওই ব্যক্তি আসলে ছদ্মবেশী পুলিশকর্মী। তরুণদের কথ্য ভাষা অনুকরণ করে আন্দোলনকারীদের গোষ্ঠীতে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন তিনি। পুলিশের এই অনুকরণকে অপটু ও হাস্যকর বলে কটাক্ষ করেন আন্দোলনকারীরা। আর সেই ব্যঙ্গ থেকেই ওই বার্তাকে স্লোগানে পরিণত করা হয়। ফরাসি ভাষায় তৈরি হয় ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্রে’। যার আক্ষরিক অর্থ, ‘আল্লাহর নামে, এ হল অন্ধকার’।
ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, এই স্লোগান নিছক কোনও শব্দবন্ধ নয়। তাঁদের মতে, আরব ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের সম্পর্কে প্রশাসনের প্রচলিত ধারণা এবং তাঁদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাবের প্রতিবাদ হিসেবেই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশের কথিত ছদ্মবেশী তৎপরতাকে ব্যঙ্গ করার পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি অনাস্থাও প্রকাশ পাচ্ছে এই স্লোগানে।
যদিও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি কোনও পুলিশকর্মীর ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তবে তদন্তের প্রয়োজনে আইনরক্ষাকারী বাহিনী ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করে থাকে বলে মন্ত্রকের তরফে স্বীকার করা হয়েছে। ফলে ওই বার্তার পিছনে কে ছিলেন, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপের অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে স্লোগানটি। বেলজিয়াম ও ইতালিতেও বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ডে দেখা যাচ্ছে ‘বিসমিল্লাহ সে লে তেনেব্রে’ শব্দবন্ধ। তরুণদের কথ্য ভাষায় এটি এখন অন্ধকার, হতাশা কিংবা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বোঝাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
একটি গোষ্ঠীতে পাঠানো বার্তা কীভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ, প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হল, তা নিয়েই এখন আলোচনা। তবে স্লোগানটির উৎস নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, তার জনপ্রিয়তা যে ফ্রান্সের বিক্ষোভের পরিসর ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।




