বিশ্বের শেয়ার বাজারে নজির গড়ল মুকেশ অম্বানীর সংস্থা জিয়ো প্ল্যাটফর্মস। সংস্থার প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে মাত্র তিন দিনে জমা পড়েছে ১.৩৮ কোটিরও বেশি আবেদন। ভারত তো বটেই, বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারের ইতিহাসেও এই বিপুল সাড়া নজিরবিহীন বলে দাবি করা হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর, বুধবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই শাখা সংস্থার।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয় জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে আবেদনের সময়সীমা। শেষ পর্যন্ত এই আইপিওতে আবেদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ গুণ। অ্যাঙ্কার লগ্নিকারীদের হিসাব ধরলে, মোট আবেদনের অঙ্ক প্রায় ৭.৪০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে অ্যাঙ্কার লগ্নিকারীদের আবেদন প্রায় ২.৫০ লক্ষ কোটি টাকা এবং অন্য লগ্নিকারীদের আবেদন প্রায় ৪.৯০ লক্ষ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।
জিয়োর আইপিও ঘিরে খুচরো লগ্নিকারীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। তাঁদের জন্য সংস্থার ৮.৫ কোটি শেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। সেই অংশে আবেদন জমা পড়েছে ২৩ কোটিরও বেশি শেয়ারের জন্য। অর্থাৎ, খুচরো লগ্নিকারীদের বিভাগে আবেদন জমা পড়েছে বরাদ্দের ২.৭২ গুণ। আগামী ২৬ অক্টোবর, সোমবার শেয়ার বরাদ্দ করার কথা সংস্থার। পরদিন, ২৭ অক্টোবর বিনিয়োগকারীদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে শেয়ার জমা পড়বে।
প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীদের মধ্যেও জিয়োর আইপিও নিয়ে বিপুল আগ্রহ দেখা গিয়েছে। যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের বিভাগে আবেদন জমা পড়েছে বরাদ্দের ৭০.৫৫ গুণ। অ-প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীদের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ ৭.৬০ গুণ। অন্যদিকে, সংস্থার কর্মীদের জন্য নির্ধারিত অংশে আবেদন জমা পড়েছে ২.৯৩ গুণ।
এর আগে আইপিওতে আবেদনের নিরিখে নজির গড়েছিল ওয়ারি এনার্জি। ২০২৪ সালে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে সংস্থাটির শেয়ার পেতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৯৭ লক্ষ ৩০ হাজার লগ্নিকারী। সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে গিয়েছে জিয়ো প্ল্যাটফর্মস। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিয়োর আইপিওতে আবেদন জমা পড়েছে তার চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি।
জিয়োর আইপিওতে প্রথম দিনেই আবেদনকারীর সংখ্যা ৩০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় দিনে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ লক্ষে। শেষ দিনে আবেদনের বিপুল বৃদ্ধিতে নতুন নজির তৈরি হয় মুকেশ অম্বানীর সংস্থার এই আইপিওকে ঘিরে।




