ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটে হেরে দেশ ছেড়ে আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছেন দক্ষিণপন্থী নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো (Flavio Bolsonaro)। এবার আমেরিকায় বসেই নিজেকে ব্রাজিলের ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ বলে দাবি করলেন তিনি। একই সঙ্গে লুলা সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকেই বিরোধিতা চালিয়ে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন ফ্লাভিও (Flavio Bolsonaro)। তবে পরে নিজেকে বিরোধী দলের নেতা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন ফ্লাভিও (Flavio Bolsonaro)। তাঁর দাবি, ভোটে কারচুপি করে লুলা ক্ষমতায় এসেছেন এবং দেশে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দেননি। পরে ফ্লাভিও বলেন, আমেরিকায় থেকেই তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেবেন।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩ আর বিরোধীরা ৬৭, তবু ইজরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা কেন?
ফ্লাভিওর (Flavio Bolsonaro) দাবি, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং দেশের বিচারব্যবস্থার পরিস্থিতির কারণেই তাঁকে ব্রাজিল ছাড়তে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমি ব্রাজিল থেকে পালিয়ে আসিনি, বরং ব্রাজিলের স্বার্থেই দেশ ছেড়েছি।’ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ফ্লাভিওর (Flavio Bolsonaro) দেশত্যাগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি ফৌজদারি তদন্তের জন্য ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করেছিল। এরপরেই স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আমেরিকার ফ্লোরিডার মায়ামিতে পৌঁছন তিনি। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা তাঁর দেশত্যাগের সমালোচনা করে বলেছেন, যাঁদের লুকোনোর কিছু নেই, তাঁদের ভয় পাওয়ারও কিছু নেই।
আরও পড়ুন: RSS ঘাঁটি নাগপুরে কংগ্রেসের জয়, মোদীর কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিল হাত শিবির
এদিকে, ফ্লাভিওর (Flavio Bolsonaro) বাবা তথা ব্রাজিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো অভ্যুত্থান মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ফ্লাভিওর বিরুদ্ধেও অর্থ পাচার-সহ একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
দেখুন:




