• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

মোদীর বারাণসীতে ফের ধাক্কা গেরুয়া শিবিরের, বিধান পরিষদের দ্বিতীয় আসনেও জয় অখিলেশ যাদবের দলের

বৃহস্পতিবার সকালে গণনা চলাকালীনই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে পরাজয় মেনে নিয়েছেন বিজেপির কেদারনাথ সিং

মোদীর বারাণসীতে ফের ধাক্কা গেরুয়া শিবিরের, বিধান পরিষদের দ্বিতীয় আসনেও জয় অখিলেশ যাদবের দলের

Image: IANS

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে ফের ধাক্কা খেল পদ্ম শিবির। বারাণসীর আরও এক বিধান পরিষদ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের পথে অখিলেশ যাদবের (Akhilesh Yadav) দল সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party)। স্নাতক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত বিধান পরিষদ আসনের উপনির্বাচনে এখনও গণনা চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে গণনা চলাকালীনই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে পরাজয় মেনে নিয়েছেন কেদারনাথ সিং। ফলে বারাণসীর শিক্ষক ও স্নাতক-দুই বিধান পরিষদ আসনেই বিজেপিকে হারিয়ে জয়ী হল অখিলেশ  যাদবের দল।

স্নাতক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত এই আসনে দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা চলছিল। এখনও পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে অনুযায়ী, এসপি প্রার্থী আশুতোষ সিং পেয়েছেন ৫০ হাজার ৪৬২টি ভোট। বিজেপির কেদারনাথ সিংয়ের প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার ৬৭৪। অর্থাৎ ১৬ হাজার ৯৮৪ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন এসপি প্রার্থী (Samajwadi Party)। গণনা শেষ হওয়ার আগেই পরাজয় স্বীকার করে নিলেন কেদারনাথ সিং। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, বারাণসীর যে সমস্ত স্নাতক ভোটার তাঁর উপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: RSS ঘাঁটি নাগপুরে কংগ্রেসের জয়, মোদীর কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিল হাত শিবির

তাঁর কথা, নির্বাচনে জয়ী হওয়া বা ক্ষমতার আসনে বসাই শেষ কথা নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই জনপ্রতিনিধির প্রধান কতর্ব্য। প্রত্যাশামতো ফল না হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করার পাশাপাশি দলের কর্মী ও সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, দলীয় কর্মীদের গণনাকেন্দ্র ছেড়ে যেতে যেতে নিষেধ করেছেন এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘শান্ত থাকুন। জয়ের শংসাপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র ছাড়বেন না’।

উত্তরপ্রদেশের ১১টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত বিজেপি (BJP)  ছ’টি এবং এসপি (Samajwadi Party) চারটি আসনে জয় পেয়েছে বলে খবর। বারাণসীর স্নাতক আসনে এসপি জিতলে এসপির মোট আসনসংখ্যা হবে পাঁচ। ২০২০ সালের নির্বাচনে ১১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ছটি, এসপি তিনটি এবং নির্দল প্রার্থী দুটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন। সেই তুলনায় এবার এসপির আসন বেড়েছে। রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল সমাজবাদী পার্টির কর্মী-সমর্থকদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে এই পরাজয় রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

আরও পড়ুন: আমেরিকায় বসে নিজেকে ব্রাজিলের ‘আসল প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা ফ্লাভিওর

রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ হল বিধান পরিষদ। অন্য দিকে, বিধানসভা হল নিম্নকক্ষ। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের ছ’টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদে মোট আসন ১০০। এই ১০০ জন সদস্যের মধ্যে ৩৮ জন নির্বাচিত হন বিধানসভার বিধায়কদেরর ভোটে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভার প্রতিনিধিরা নির্বাচিত করেন ৩৬ জনকে। স্নাতক ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হন আট জন এবং শিক্ষকদের ভোটে আরও আট জন। বাকি ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনীত করেন রাজ্যপাল।

বারাণসী দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তার আগে দীর্ঘ সময় এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন বিজেপি নেতা মুরলীমনোহর জোশী। ফলে বারাণসীর নির্বাচনী ফল বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বারাণসীর দুই আসনে এসপির জয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফল বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টি দুই দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।

দেখুন: