• facebook
  • twitter
Sunday, 15 February, 2026

বিষাক্ত ব্যাঙের বিষ প্রয়োগে নাভালনিকে হত্যা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ইউরোপের পাঁচ দেশের

ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের তদন্তের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বিষ পক্ষাঘাত, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর কট্টর সমালোচক ও বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি–র মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, সাইবেরিয়ার একটি দণ্ডশিবিরে বন্দি অবস্থায় নাভালনিকে বিষাক্ত ব্যাঙের শরীরে পাওয়া এক মারাত্মক বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছিল।

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নাভালনির দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষায় ‘এপিবাটিডিন’ নামের এক প্রাণঘাতী বিষের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এই বিষ মূলত দক্ষিণ আমেরিকার বিষাক্ত ডার্ট ব্যাঙের চামড়ায় পাওয়া যায়। এটি পৃথিবীর অন্যতম মারাত্মক স্নায়ুবিষ হিসেবে পরিচিত। ইউরোপীয় দেশগুলির দাবি, এই ধরনের বিরল ও অত্যন্ত শক্তিশালী বিষ ব্যবহার করার ক্ষমতা, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ কেবল রুশ রাষ্ট্রেরই ছিল।

Advertisement

২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে নাভালনির মৃত্যু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে উগ্রপন্থা-সহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

Advertisement

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের তদন্তের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বিষ পক্ষাঘাত, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’ তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর জন্য পুতিনকে জবাবদিহি করতে হবে।

অন্যদিকে, রাশিয়া এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। রুশ সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি পশ্চিমা দেশগুলির ‘প্রচারমূলক অপপ্রচার’ এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং রাশিয়া–পশ্চিম বিশ্ব সম্পর্ক আরও তীব্র সংঘাতের দিকে এগোতে পারে।

Advertisement