• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 16 September, 2026

জ্বালানির চাপে পাকিস্তানে ‘স্মার্ট লকডাউন’-এর পরিকল্পনা, সময়ের আগে বন্ধ বাজার

সরকারের জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা সামনে আসতেই বিরোধীদের চাপও বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী-সহ কয়েকটি বিরোধী দল মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জ্বালানির দাম কমানো না হলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে তারা।

জ্বালানির চাপে পাকিস্তানে ‘স্মার্ট লকডাউন’-এর পরিকল্পনা, সময়ের আগে বন্ধ বাজার

File Photo

ইরান-আমেরিকার সংঘাতের আঁচ এবার আরও গভীরভাবে পড়ল পাকিস্তানে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি আমদানি নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তার জেরে দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম ফের বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার জ্বালানি ব্যবহারে রাশ টানার পথে হাঁটছে পাকিস্তান সরকার।

সরকারি-বেসরকারি অফিসে সপ্তাহে ৪ দিন কাজ, বাজার ও শপিংমল দ্রুত বন্ধ করা, যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারে সীমা এমন একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই ‘স্মার্ট লকডাউন’ বলা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই কীভাবে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো যায়, তা খতিয়ে দেখা হয়। প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে সপ্তাহে ৪ দিন অফিস খোলা এবং কর্মীদের পালা করে অফিসে আসা বা কিছুক্ষেত্রে বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা। অফিসের কাজও বিকেলের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু অফিস নয়, বাজার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির সময়ও কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, রাত ৮টার পর বাজার, শপিং মল ও অন্যান্য দোকান খোলা রাখা হবে না। খাবারের দোকানও রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ করতে হতে পারে। সরকারি দপ্তরে জ্বালানি বরাদ্দ কমানো, অপ্রয়োজনীয় সরকারি গাড়ির ব্যবহার ও বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত কমানোর মতো ব্যবস্থাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে ‘স্মার্ট লকডাউন’ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মুসাদিক মালিক এই ধরনের খবরকে জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা ভাবছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ দেশকে অচল করে দেওয়া নয়।

তথ্যমন্ত্রী আত্তা তারার অবশ্য এর আগে ব্যয় কমানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে পেট্রলের দাম ফের বাড়িয়েছে পাকিস্তান। লিটার প্রতি পেট্রলে ৪.১০ পাকিস্তানি রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলে ৬.৪১ রুপি করে দাম বেড়েছে। ফলে পেট্রলের দাম হয়েছে লিটার প্রতি ৩৮৪.৩৪ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৪১৫.৮৩ রুপি।

জ্বালানিমন্ত্রী আওয়াইস লেঘারি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের উপর জ্বালানি আমদানির খরচের চাপ অনেকটাই বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী এবং বাব-এল-মান্দেব ঘিরে নিরাপত্তা বিষয়ক পরিস্থিতির অবনতির ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সেই আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

দাম বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের পরিমাণও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। মোটরসাইকেল চালকরা প্রতি সপ্তাহে পাঁচ লিটার এবং গাড়ির মালিকরা প্রতি ১০ দিনে ১০ লিটার করে ভর্তুকিযুক্ত পেট্রল পাবেন। তবে সরকার স্বীকার করেছে, জ্বালানির বাড়তি দামের পুরো চাপ সামাল দেওয়ার জন্য এই সহায়তা যথেষ্ট নয়।

এদিকে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা সামনে আসতেই বিরোধীদের চাপও বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী-সহ কয়েকটি বিরোধী দল মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জ্বালানির দাম কমানো না হলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনার খবর করতে গিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে ভাঙল নিউজ হেলিকপ্টার, মৃত ৩

সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিতে। তেলের দাম, সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বাড়তে থাকা সরকারি খরচের চাপ সামলাতে ইসলামাবাদকে এখন একদিকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর পথ খুঁজতে হচ্ছে।