• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

শোয়েবের ভাইয়ের শেষকৃত্যে লস্কর-ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতি, ভাইরাল ছবি ও ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

ভারতীয় সূত্রের দাবি, ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই হামলার তদন্তেও হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাসুরির নাম উঠে এসেছিল। যদিও পাকিস্তান সরকার তাঁকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার করেনি। সম্প্রতি সইফুল্লাহ কাসুরি একাধিক ভারত-বিরোধী ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছেন।

শোয়েবের ভাইয়ের শেষকৃত্যে লস্কর-ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতি, ভাইরাল ছবি ও ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা পেসার শোয়েব আখতারের পরিবারের একটি শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শোয়েবের বড় ভাই শাহিদ আখতারের শেষকৃত্যে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই সেই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শাহিদ আখতার গত ২৪ জুন মারা যান। পরে ইসলামাবাদের এইচ-৮ কবরস্থানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। সেখানকার ভাইরাল ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শোয়েব আখতারকে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানাচ্ছেন লস্কর-ই-তৈবার ডেপুচি চিফ সইফুল্লাহ কাসুরি। শুধু তিনিই নন, লস্করের রাজনৈতিক শাখা পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ বা পিএমএমএলের সভাপতি ইনাম উর রহমান-সহ সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমনটাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পিএমএমএলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা তুর, জোনাল সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উমর এবং খিদমত কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ ভাট্টিকেও ওই অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। তাঁদের অনেকেই হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত জামাত-উদ-দাওয়া ও মিল্লি মুসলিম লিগের উপর নিষেধাজ্ঞার পর হাফিজ সইদ বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ গঠন করেন। এই দলকে লস্কর-ই-তৈবার সহযোগী সংগঠন হিসেবে দেখা হয়। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনেও দলটি অংশ নিয়েছিল।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে সইফুল্লাহ কাসুরির উপস্থিতি। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতীয় সূত্রের দাবি, ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই হামলার তদন্তেও হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাসুরির নাম উঠে এসেছিল। যদিও পাকিস্তান সরকার তাঁকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার করেনি। সম্প্রতি সইফুল্লাহ কাসুরি একাধিক ভারত-বিরোধী ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছেন।

পহেলগাম হামলার পর সইফুল্লাহ কাসুরির বেশ কয়েকটি ভাষণ ভাইরাল হয়। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের পরও তিনি প্রকাশ্যে ভারতকে হুমকি দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লস্করের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিতও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের প্রতি রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি ভারতের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের বলে অনেকে মনে করছেন।