• facebook
  • twitter
Friday, 22 May, 2026

মহাকাশে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করেছে চিন, উদ্বেগে পেন্টাগন

মহাকাশে সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়াচ্ছে চিন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ভবিষ্যতের যুদ্ধে মহাকাশে আধিপত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে আমেরিকা।

মহাকাশে সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে চিন দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করল আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর। পেন্টাগনের শীর্ষ আধিকারিকরা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে মহাকাশে আধিপত্যের উপর। সেই কারণে আমেরিকাকেও দ্রুত নিজেদের মহাকাশ সামরিক শক্তি বাড়াতে হবে।

মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর প্রধান জেনারেল বি চান্স সল্টজম্যান কংগ্রেসের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির শুনানিতে বলেন, সামরিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় এখন এক নতুন যুগ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলি মহাকাশ ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নষ্ট করার জন্য লাগাতার কাজ করছে।

Advertisement

পেন্টাগনের প্রস্তাবিত ২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে মহাকাশ বাহিনীর জন্য ৭১১০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালে মহাকাশ বাহিনী গঠনের পর এটিই অন্যতম বড় আর্থিক বৃদ্ধি বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

এই অর্থ ব্যবহার করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আরও শক্তিশালী উপগ্রহ নেটওয়ার্ক, মহাকাশভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ প্রযুক্তি এবং প্রতিরোধমূলক মহাকাশ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

মহাকাশ বাহিনী আগামী দিনে কর্মীসংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি নতুন স্কোয়াড্রন এবং বিশেষ দপ্তর তৈরি করা হবে, যাতে দ্রুত বাড়তে থাকা মহাকাশ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

জেনারেল সল্টজম্যানের বক্তব্য, চিন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিজেদের সামরিক প্রযুক্তি আধুনিক করছে। বিশেষ করে মহাকাশ ব্যবস্থা, উপগ্রহ যোগাযোগ এবং ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

মার্কিন বায়ুসেনার সচিব ট্রয় মেইঙ্কও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, চিনের দ্রুত সামরিক আধুনিকীকরণ আমেরিকাকে আরও দ্রুত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বাধ্য করছে।

শুনানিতে একাধিক আইনপ্রণেতা তাইওয়ান এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে মহাকাশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মার্কিন বায়ুসেনার জেনারেল কেনেথ উইলসবাখ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধে শুধু আকাশ নয়, মহাকাশেও শ্রেষ্ঠত্ব জরুরি। তাঁর বক্তব্য, একবিংশ শতকে মহাকাশে আধিপত্য ছাড়া আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

পেন্টাগন একইসঙ্গে বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেও সামরিক মহাকাশ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উপর জোর দিচ্ছে। বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্র এবং বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে সামরিক নজরদারি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে আধিকারিকরা সতর্ক করেছেন, উৎক্ষেপণের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় কেপ ক্যানাভেরাল এবং ভ্যান্ডেনবার্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলির উপর চাপও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী দশকে মহাকাশই হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। চিন ও আমেরিকার এই প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

Advertisement