• facebook
  • twitter
Wednesday, 7 January, 2026

কাশ্মীর ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বৈঠকে যৌথ বিবৃতি চিন ও পাকিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ায় একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা

প্রতীকী চিত্র

চিন ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উঠে এল কাশ্মীর, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান– দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক স্পর্শকাতর ইস্যু। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ স্পষ্ট জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় যে কোনও একতরফা পদক্ষেপের তারা বিরোধী। আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতাবস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

একটি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, শনিবারের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার ‘নতুন ফল’ পেতে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই দুই দেশের মূল লক্ষ্য।

Advertisement

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অবস্থান বেজিংয়ের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। ওই অঞ্চলের উন্নয়ন এবং ‘ঐতিহাসিক বিরোধ’ মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রস্তাব ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে বার্তা দিয়েছে চিন। যদিও বিবৃতিতে সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ‘আন্তর্জাতিক চাহিদা’ পূরণ এবং পারস্পরিক সমতা ও উপকৃত হওয়ার নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা সিন্ধু জলচুক্তি ঘিরে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

Advertisement

বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাইওয়ান, তিব্বতের জিজাং, হংকং এবং দক্ষিণ চিন সাগর ‘চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে বেজিংয়ের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান। পাল্টা, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চিন।

আফগানিস্তান প্রসঙ্গেও দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল টিটিপি ও বালোচ জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবুও জঙ্গি দমনের দাবিতে ‘বন্ধু’ পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের সরকারের সঙ্গে ‘নিবিড় যোগাযোগ’ রেখে রাজনৈতিক পরিকাঠামো, নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে চিন ও পাকিস্তান।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে বেজিং। একই সঙ্গে পাকিস্তানে কর্মরত চিনের নাগরিক, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইসলামাবাদের উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয়েছে।

এ ছাড়া, চিন–পাক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণাও করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নততর সংস্করণ ‘২.০’ বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল।

Advertisement