পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনার মাঝেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগ্চি জোরালো কণ্ঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প জটিল কূটনৈতিক আলোচনাকে বাজারে ‘মূল্যবান বস্তু বিক্রির মতো’ বিষয় বলে ধরে নিয়েছেন। সেই কারণেই কূটনীতি ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রকাশে দেখা গিয়েছে, আরাগ্চি তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘যখন জটিল পারমাণবিক আলোচনাকে রিয়েল এস্টেট লেনদেনের মতো দেখা হয় এবং বড় মিথ্যা বিষয়কে ধোঁয়াশাচ্ছন রাখা হয়, তখন কখনই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর ফল? রাগে আলোচনার টেবিলকে ছুঁড়ে ফেলা।’
Advertisement
তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক রাউন্ড আলোচনার পরও কোনও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো যাচ্ছে না। ইরানের এই তীব্র প্রতিক্রিয়া মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নীতি ও আচরণের বিরুদ্ধেই। আরাগ্চি ট্রাম্প প্রশাসনের ওই আচরণকে শুধু আলোচনার টেবিল নষ্ট করা হিসেবে দেখেননি, বরং তিনি এটিকে কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বাসঘাতকতার বড় উদাহরণ হিসেবেও উপস্থাপন করেছেন।
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মন্তব্য কেবল এক ব্যক্তির নয়, বরং ইরান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে তারা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির মূল উদ্দেশ্যকে ভুল পথে নিয়ে গিয়েছে। ইরান ও আমেরিকার সম্পর্কের এই উত্তেজনার জেরে আরাগ্চির বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিমণ্ডলে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইরানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনীতির সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করা। কিন্তু যদি কার্যকর আলোচনার জায়গায় বিশ্বাসঘাতকতাই প্রাধান্য পায়, তাহলে আলোচনার টেবিলই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। আর তাই ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্য সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের নজরকে আরও ঘুরিয়ে দিয়েছে।
Advertisement



