বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। ঢাকার বিশেষ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন করা হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ২৮৬ জন নেতা-কর্মীর নামও রয়েছে। অন্য একটি মামলায় ইতিমধ্যেই তার ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাসিনা ব্রিটেন থেকে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি ভার্চুয়াল সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অভিযোগ করেছে, ওই সভায় দেশবিরোধী বক্তব্য দেন তিনি। ব্রিটেন থেকে ওই ভার্চুয়াল সভার পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের নেতা রাব্বী আলম। দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের কয়েকশো নেতা-কর্মী ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রুজু করা হয়। সেই মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জন বর্তমানে বাংলাদেশের জেলখানায় বন্দি রয়েছেন।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলনের সময় গণহত্যার অভিযোগও উঠেছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় তার ফাঁসির সাজা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
রবিবার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল বক্তব্যে শেখ হাসিনা ছাত্রসংগঠনকে চাঙ্গা করার দাওয়াই দেন। তিনি বলেন, নেতা-কর্মীরা রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত জনসংযোগ বাড়াতে হবে। তিনি কারাগারে থাকা নেতাদের সাহায্য ও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকার এবং বর্তমান সরকারের ‘অপকর্মের’ বিরুদ্ধে সরব হওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
এদিন রাতে ভার্চুয়াল ভাষণে আওয়ামী লীগের সর্বময় নেত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন, খুন, গণহত্যা করে সংগঠন পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর দাবি, কারাগারে ১১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতা-কর্মী, যাঁরা কারাগারে বন্দি, তাঁদের খাবার ও শোয়ার জায়গাটুকু দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, জনসমর্থনের ভয়েই ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগকে দমানোর চেষ্টা করছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘একদিন অন্ধকার সময় কেটে যাবে। আওয়ামী লীগ আবারও আলোতে ফিরে আসবে।’ তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জঙ্গি’ ও ‘খুনিদের’ সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। শেখ হাসিনা মনে করেন, ইউনূস সরকার জনসমর্থনের ভয় দেখিয়ে দল ও ছাত্রসংগঠনকে দমন করার চেষ্টা করছে।
Advertisement



