ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই ডাকটিকিট উন্মোচন করা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁর পূর্বে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে নীরবতা পালন করেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও একে একে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এবারের অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যা একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
Advertisement
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ কেন্দ্রের নবনির্বাচিত নির্দল সাংসদ রুমিন ফারহানাকে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একদল রাজনৈতিক কর্মী তাঁকে শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণে বাধা দেন। ফলে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই ফিরে যান। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার ভোরে তাঁর সমর্থকরা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা–সিলেট জাতীয় সড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন। এই ঘটনার জেরে প্রায় দশ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
Advertisement
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেডিকেল কলেজের সামনে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিতে সালাম, রফিক, শফিক, জব্বার ও বরকত শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগই পরবর্তীকালে বৃহত্তর গণআন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ভাষা আন্দোলনের চেতনা পরবর্তীকালে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Advertisement



