মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, দিল্লিতে আয়োজিত এক শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে কংগ্রেস কর্মীদের অর্ধনগ্ন প্রতিবাদের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে সোচ্চার যুব মোর্চা। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ইন্দোরে প্রতিবাদ চলছিল। কংগ্রেসের কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মীরা অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। সেই সময় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ সংঘর্ষে পরিণত হয়। শুরু হয় পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি।
Advertisement
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাথর ছাড়াও জলভর্তি বোতল, তেলের প্যাকেট, কমলা ও টমেটো ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ও জলকামান মোতায়েন করা হয়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দৃশ্যে দেখা যায়, এক সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক এবং এক চিত্রগ্রাহক আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
Advertisement
এই ঘটনার পর দু’দলই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। মধ্যপ্রদেশে বিজেপির গণমাধ্যমের দায়িত্বপ্রাপ্ত আশিস আগরওয়াল দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন কংগ্রেস কর্মীরাই প্রথম পাথর ছোঁড়েন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস কার্যালয়ের বাইরে ছড়িয়ে থাকা ইট-পাথর থেকেই প্রমাণ মেলে যে তারা আগে থেকেই সহিংসতার প্রস্তুতি নিয়েছিল।
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীরাই কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে পাথর ছুঁড়ে ইন্দোর জেলা সভাপতি বিপিন ওয়ানখেড়ে-সহ একাধিক কংগ্রেস কর্মীকে গুরুতর জখম করেছেন। সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকরাও আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ইন্দোর পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পরিস্থিতির পর ভোপাল ও ইন্দোরে কংগ্রেস কার্যালয়ের বাইরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
Advertisement



