• facebook
  • twitter
Wednesday, 18 February, 2026

বিরোধী দলনেতা ও জামায়াত প্রধান শফিকুরের সঙ্গে বৈঠক বিক্রম মিস্রীর

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করল ভারত। ঢাকায় গিয়ে বাংলাদেশের নতুন বিরোধী দলনেতা তথা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়। ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাই কমিশন সমাজমাধ্যমে এই সাক্ষাতের কথা জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে।

হাই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বিক্রম মিস্রী বাংলাদেশের নতুন বিরোধী দলনেতাকে শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের প্রতি ভারতের অবারিত সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, শফিকুর রহমানও ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি জোর দেন।

Advertisement

এদিকে, তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। শপথের পর তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা তাঁর হাতে তুলে দেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ে দুই দেশের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সাক্ষী বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ প্রধান শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদের নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর পাশাপাশি সৈয়দ আবদুল্লা মহম্মদ তাহের উপবিরোধী দলনেতা এবং নাহিদ ইসলাম বিরোধী শিবিরের প্রধান হুইফ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিরোধী জোটের তরফে সংসদের ভিতরে ও বাইরে সরকারকে গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি দেশের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন সরকার ও বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে সমানভাবে যোগাযোগ বজায় রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের কূটনৈতিক সংলাপ ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও স্থায়ী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করবে  বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement