ফের এক হিন্দু যুবককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। চট্টগ্রামের ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিকল্পিতভাবেই সমীর দাস নামে বছর ২৮-এর এই যুবকের উপর হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে সমীরকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর এলোপাথাড়িভাবে আঘাত করতে থাকে হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। গত ২৪ দিনের মধ্যে এটি হিন্দু হত্যার নবম ঘটনা।
পুলিশের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে সমীরের একটি ব্যাটারিচালিত অটো ছিল। সমীরকে হত্যা করার পর অটোটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় সমীরের পরিবারের লোকেরা তাঁর খোঁজ করতে শুরু করেন। পরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি মাঠে সমীরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মানুষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে।
জানা গিয়েছ, সমীরের দেহের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি দিয়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের অনুমান, সমীরকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ফেনির পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ‘সমীর কুমার দাস রাত ৮টার পর তাঁর অটো নিয়ে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে আর তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। রাত ২টোর পর তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে সমস্ত আইনি কাজ সম্পন্ন করে। একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এখনও আমরা হত্যাকাণ্ডের কোনও সূত্রে খুঁজে পাইনি। কাউকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি। আমাদের তদন্ত চলছে।’ দাগনভুঁইয়া থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশীয় অস্ত্রের সাহায্যে ওই যুবককে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যত এগিয়ে আশছে, ততই সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনা বাড়ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষ।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কূটনৈতিক স্তরেও উত্তাপ বাড়ছে। দিল্লির অভিযোগ, এই ধরণের হামলার ঘটনাগুলিকে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক বিরোধ বলে অভিহিত করার চেষ্টা করা হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বাংলদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বারংবার ঘটছে। একে দ্রুত কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। ভারত এও জানায়, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। এরই মধ্যে আবার হিন্দু যুবক খুনের ঘটনা ঘটল।
Advertisement