মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপিত শুল্কের একটি বড় অংশ ফেরত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের শুরুতে ওই শুল্ক আরোপকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে। এরপরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে জানানো হয়েছে।
আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা সংক্রান্ত ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (IEEPA) ব্যবহার করে প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ সেইসব আমদানিকারকদের দেওয়া হয়েছে, যারা ওই শুল্ক পরিশোধ করেছিলেন।
হোয়াইট হাউস দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের আওতায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারের উপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানায়, এক্ষেত্রে প্রেসি়ডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছেন। আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ শুল্ক আরোপ ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
আদালতে দাখিল করা নথিতে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের এক কর্তা জানান, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত সম্ভাব্য ও অনুমোদিত মিলিয়ে প্রায় ১২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আইনি পথ খুঁজে বিভিন্ন দেশের উপর আবারও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সেই পদক্ষেপগুলিও ইতিমধ্যেই নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।




