• facebook
  • twitter
Thursday, 1 January, 2026

পুরান ও ইতিহাসের হাত ধরে সুপুরের পথে পথে

আজও সুপুরের অলিতে গলিতে আনন্দচাঁদ গোস্বামীর নানা অলৌকিক কর্মকাণ্ডের কথা লোকমুখে ঘুরে বেড়ায়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক লেখায় আনন্দচাঁদ গোস্বামীর নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে। আনন্দচাঁদ গোস্বামী তাঁর অসম্ভব বুদ্ধি এবং সাহসের সঙ্গে সুপুরকে বর্গী আক্রমণ থেকে বারবার রক্ষা করেছিলেন।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সম্বুদ্ধ দত্ত

বীরভূমের বোলপুরের এক সাধারণ গ্রাম সুপুর। আপাতদৃষ্টিতে বাংলার আর পাঁচটা গ্রামের থেকে সুপুরকে আলাদা না মনে হলেও বর্তমান বোলপুর এবং সুপুরে সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক পৌরাণিক কাহিনি। প্রাচীন বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবেও সুপুরের বেশ খ্যাতি ছিল। অজয় নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এক নৌবন্দর যার, ফলশ্রুতি সুপুরের বাণিজ্য বৈভব। মূলত লবণ ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র ছিল সুপুর। অজয় নদীর দুটো ঘাটের কথা এক্ষেত্রে উল্লেখ করা দরকার। এই ঘাট দুটোর একটা হল মাঠতলা ঘাট আর অন্যটা নুনভাঙা ঘাট। সুদূর গুজরাত থেকে বণিকরা এখানে ভেজা নুন নিয়ে আসত। নুনভাঙা ঘাটে চলত সেই ভেজা নুন শুকনো করার কাজ। এরপর শুকনো নুন বিক্রির জন্য পৌঁছে যেত গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। এই কারণেই ‘নুনভাঙাঘাট’ এমন নামকরণ হয়েছিল। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অজয় নদীর জল পথে ধরে পণ্য এলে যেখানে ব্যবসায়ীরা বেচাকেনার জন্য হাট বসাতো সেখানকার বর্তমান নাম হাটরসুলগঞ্জ।

Advertisement

সুতরাং ইতিহাস থেকে বাণিজ্য এমনকি পৌরাণিক গাথায়ও সুপুরের নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে। সুপুর নামের বিষয়ে প্রধানত দুটো মত প্রচলিত আছে। প্রথম মত, স্থানীয় চন্দ্রবংশীয় রাজা সুবাহু সিংহ যিনি প্রায় দু’হাজার পাঁচ​শো বছরেরও আগে এই অঞ্চলের রাজা ছিলেন। রাজা সুবাহু সিংহের নাম অনুসারে এক সময় এই গ্রামের নাম ছিল সুবাহুপুর। পরবর্তী কালে সেই সুবাহুপুর লোকমুখে অপভ্রংশ হয়ে সুপুরে পরিণত হয়। দ্বিতীয় মত, রাজা সুবাহু সিংহের বংশের পরবর্তী অন্য এক সময়ে অধিপতি ছিলেন রাজা সুরথ। এই রাজা সুরথের জীবন- কাহিনির সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে সুপুর ও বোলপুর নামের উৎস, তেমনি ভারতবর্ষের প্রথম দুর্গা পূজার প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি। মার্কণ্ডেয় পুরাণে রাজা সুরথ দ্বারা প্রথম দুর্গাপূজার কথা আমরা জানতে পারি। তখন সত্য যুগের কাল। রাজা সুরথ ছিলেন একজন ধর্মপরায়ণ এবং প্রজাবৎসল রাজা। এক যুদ্ধে রাজা সুরথ তাঁর কিছু সৈন্য এবং রাজ কর্মচারীদের বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত হলে রাজকর্মচারী এবং সন্তানসম প্রজাদের থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নিলেন। সেই জঙ্গলে সমাধি বৈশ্য নামের এক বণিকের সঙ্গে রাজা সুরথের সাক্ষাত হল। বাণিজ্যে সর্বস্বান্ত হয়ে সমাধি বৈশ্যও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরছিলেন। এক সময় দু’জনে গড় জঙ্গলে (বর্তমান পশ্চিম বর্ধমান) মেধস মুনির আশ্রমে হাজির হয়ে আশ্রয় নিলেন।

Advertisement

মেধস মুনি রাজ্যহারা রাজা সুরথের ফেলে আাসা জীবনের সব কথা শুনে তাঁকে দেবী দুর্গার আরাধনার নির্দেশ দিলেন। রাজা সুরথও মেধস মুনির আদেশ মেনে গড় জঙ্গলে তিন বছর বসন্তকালে দেবী দুর্গার পূজা করেন যা বাসন্তী নামে প্রচলিত। এখানে একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে রাজা সুরথ দ্বারা গড় জঙ্গলের দুর্গাপূজাকেই ভারতের প্রথম দুর্গাপূজা হিসাবে মান্য করা হয়। দেবীর কৃপায় রাজা সুরথ আবার স্বরাজ্য ফিরে এসে সুপুরের শিবিক্ষা চণ্ডীর থানে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন এবং সেই পূজার তিথি বা ক্ষণ পাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজা সুরথ শিবিক্ষাচণ্ডী থান থেকে বানগোড়া পর্যন্ত লক্ষ পশু বলি প্রদান করেন। এই লক্ষ বলির কারণে এক সময় এই অঞ্চলের নাম হয়ে ছিল বলিপুর। বোলপুরের প্রবীণ এবং স্থানীয় ইতিহাস অনুসন্ধানকারীদের মতে বলিপুর থেকেই আজকের বোলপুর নামের সৃষ্টি। রাজা সুরথ দেবী দুর্গার আরাধনা সিদ্ধিলাভ করে নিজের পুরে বা রাজ্যে অর্থাৎ স্বপুরে ফিরে এলেন। এই স্বপুর থেকেই সৃষ্টি হল আজকের সুপুর নামের। আজ যেখানে বিশাল সুসজ্জিত সুরথেশ্বর শিবমন্দির পুরাকালে সেই অঞ্চল ছিল গভীর জঙ্গলময়। এখানেই রাজা সুরথ শিবমন্দির তৈরি করেছিলেন। জঙ্গলে ঢাকা এই মন্দির বহুকাল লোক চক্ষুর অন্তরালে ছিল। গজপতি নাগা নামে এক শিবের উপাসক এই মন্দির সংস্কার করে বেশ কিছুকাল এখানে সাধনা করেছিলেন। গজপতি নাগার পরবর্তী সময় মন্দির আবার জরাজীর্ণ হয়ে পরে। অবশেষে রায়পুরের জমিদার পরিবারের সদস্যা সুভাষিণী দেবী (প্রমথনাথ সিংহের স্ত্রী) ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে ( ইং- ১৯৩২-১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ) পুরনো মন্দির সংস্কার করে আবার নতুন সুরথেশ্বর শিবমন্দির তৈরি করেন। সম্ভবত সেই সময় সুরথেশ্বর মন্দিরের ডান অংশের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও একটা ছোট শিবমন্দির। ২০০০ সালে স্থানীয় ধনী ব্যক্তি বিমল সিংহ সুরথেশ্বর মন্দিরের ডান দিকে নতুন এক দুর্গামন্দির স্থাপন করেন।

পরবর্তী ২০০৩ সালে সুবিশাল সুরথেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণ দিনবন্ধু সিংহ (বিমল সিংহর পুত্র) সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সংস্কার করে নতুন রূপ দান করেন। ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে এখানে দুর্গাপূজা হয়ে চলছে। এই পূজা এখন বোলপুরবাসীর অন্যতম আকর্ষণীয় দুর্গাপূজা। চৈত্র সংক্রান্তিতেও এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়।

সুরথেশ্বর মন্দির বোলপুরের এক দর্শনীয় স্থান। বিশাল সুসজ্জিত এই মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই এক লহমায় মন পৌঁছে যায় সুদূর অতীতে পুরাণে বর্ণিত রাজা সুরথের সময়কালে। সুরথেশ্বর মন্দিরের প্রবেশদ্বারের সামনে রয়েছে ঊর্ধ্ববাহুর দণ্ডায়মান বিশালাকার শ্বেত শুভ্র দেবাদিদেব মহাদেবের মূর্তি। মন্দিরের একেবারে পূর্বদিকে বেশ বড় ঘাট বাঁধানো পুকুর এবং ধ্যানমগ্ন বিশাল আকারের স্বর্ণ বর্ণের আরও একটা শিবের মূর্তি মন্দির প্রাঙ্গণকে যেন আরও মোহময় করে তুলেছে।

সুরথেশ্বর মন্দিরের বিশাল প্রাঙ্গণে নানা গাছের মধ্যে পুরাতনের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে পাঁচশো বছরের বেশি প্রাচীন প্রকাণ্ড এক তেতুল গাছ। এ গাছের কিছু অংশ বয়সের ভারে প্রায় মাটির কাছে ঝুকে এসেছে। মন্দির কতৃপক্ষ গাছের এই অংশগুলো বাঁচতে লোহার স্তম্ভ দিয়ে ধরে রেখেছে। বৃত্তাকারে পাথরে মোড়া এই গাছের নিচে বসলে মন আশ্চর্য এক প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। শান্ত স্নিগ্ধ কোলাহলহীন পুরানের আবেশে আবিষ্ট সুরথেশ্বর শিবমন্দির আজও যেন অতীতকে বয়ে নিয়ে চলছে। সুপুরে চলতে চলতে কোথাও কোথাও সময় যেন থমকে দাঁড়ায়। হাট রসুলপুরের কাছেই রয়েছে ১৭১৭ সালে তৈরি পুরনো জোড়া শিবমন্দির। বাংলার চারচালা এবং উড়িষ্যার রেখাশৈলীর সমন্বয়ে তেরি এই মন্দিরদুটো। স্থানীয় ময়রা পরিবারের সদস্য রাধিকা ময়রা এই জোড়া শিবমন্দির তৈরি করেন। সরকার মন্দিরদুটো অধিগ্রহণ এবং সংস্কার করায় এখনও মন্দিরদুটো বেশ ভালো রয়েছে। দুই মন্দিরে শিবলিঙ্গ এখনও বর্তমান এবং নিয়মিত পূজা অর্চনাও হয়। মন্দিরগাত্র টেরাকোটার ফলক দিয়ে সাজানো। মন্দিরের স্তম্ভগুলোর ফলকে বাহারি লতা ও ফুল ফুটিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি মন্দিরের গায়ে মহিষাসুরমর্দিনী, রাম-রাবণের যুদ্ধ, সংকীর্তনরত শ্রীচৈতন্য ও তাঁর ভক্তবৃন্দ, পিতা শ্রীরামের সঙ্গে পুত্র লব-কুশের যুদ্ধ, যুগল রাধাকৃষ্ণ, বরাহ অবতার, বামন অবতার, শিশু গণেশের দুধ পান, বীণা হাতে নারদ, শিশু কৃষ্ণকে যশোদার স্নানের করানোর মতো ঐতিহাসিক, পৌরাণিক এবং সামাজিক দৃশ্যের সমন্বয় ঘটেছে। জোড়া মন্দির ছাড়িয়ে গ্রামের ভিতরে গেলে চোখে পড়ে পাঁচশো বছরের পুরনো শ্যামরাই মন্দির, বীরগোস্বামী দুর্গামন্দির, রক্ষাকালী মন্দির। স্থানীয় গ্রামবাসীরা সম্প্রতি এই মন্দিরগুলো সংস্কার করে আবার নতুন রূপে গড়ে তুলেছে। রক্ষকালী মন্দির ছাড়িয়ে কিছুটা এগোলে চোখে পড়ে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ভগ্নপ্রায় আনন্দচাঁদ গোস্বামীর রাস মন্দির৷ উঁচু একটা ঢিবির উপর পঞ্চরত্ন এই রাস মন্দিরের স্থাপত্য বেশ নজর কাড়ে।

বর্তমানে মন্দিরের একটা চূড়া (রত্ন) সমেত অনেকটা অংশই ভেঙে গেছে। এখানেই এক সময় আনন্দচাঁদ গোস্বামীর আশ্রম ছিল। আনন্দচাঁদ গোস্বামী শুধু একজন কৃষ্ণসাধকই ছিলেন না, অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীও ছিলেন। আজও সুপুরের অলিতে গলিতে আনন্দচাঁদ গোস্বামীর নানা অলৌকিক কর্মকাণ্ডের কথা লোকমুখে ঘুরে বেড়ায়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক লেখায় আনন্দচাঁদ গোস্বামীর নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে।

আনন্দচাঁদ গোস্বামী তাঁর অসম্ভব বুদ্ধি এবং সাহসের সঙ্গে সুপুরকে বর্গী আক্রমণ থেকে বারবার রক্ষা করেছিলেন। জঙ্গলময় সুপুরের এমন সব জায়গায় তিনি বড় বড় পুকুর এবং খাল কেটে ছিলেন যার জন্য ভাস্কর পণ্ডিতের নেতৃত্বে বর্গীরা যেমন সুপুরে প্রবেশ করতে পারেননি অপরদিকে আনন্দচাঁদের অনুগামীরা পাল্টা বর্গীদের উপর আঘাত হেনে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিত। জঙ্গলের মধ্যে রাসমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে স্থানীয় প্রবীণদের থেকে কৃষ্ণসাধক আনন্দচাঁদ গোস্বামীর এমন নেতৃত্বপূর্ণ বীরত্বের কাহিনি শুনতে শুনতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই সময়ের বর্গী হানার বীভৎসতা এবং এক কৃষ্ণময় বৈষ্ণবের সংগ্রামের পটভূমি। সুপুরের মা শিবিকাচণ্ডীর থানে সামনে না দাঁড়ালে সুপুর এবং বোলপুরকে জানা অপূর্ণ থেকে যায়। গড় জঙ্গল থেকে সুপুরে ফিরে রাজা সুরথ এই শিবিকাচণ্ডী থান থেকে দুর্গাপূজার সুচনা করেছিলেন। রাজা সুরথ দেবীর পূজার ক্ষণ বা তিথি পাওয়ার উদ্দেশ্য এই শিবিকাচণ্ডীর থান থেকেই লক্ষ বলির সুচনা করেছিলেন।

বর্তমানে আদিবাসী-অধ্যুষিত গ্রামের শেষ প্রান্তে একেবারে জনশূন্য মাঠের এক পাশে রয়েছে এই জাগ্রত দেবী শিবিকাচণ্ডীর থান। আলপনা আঁকা তিন স্তরের বেশ অদ্ভুত আকৃতির উঁচু বেদীর উপর শিবিকা মায়ের অধিষ্ঠান৷ বহু প্রাচীন ছোট্ট মন্দিরকে বট গাছের মূল এমন ভাবে আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরে রেখেছে যে মন্দিরের অস্তিত্বই বর্তমানে বোঝা দায়। ছোট্ট মন্দিরের ভিতর সিঁদুর রাঙানো শীলাখণ্ডে স্থানীয় মানুষ প্রতিদিন সকাল- সন্ধ্যা শিবিকা মায়ের পূজা অর্চনা করেন। এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে বাঘেল পুকুর নামে এক বিশাল পুকুর। কোনও এক সময় পুকুরের বাঁধানো ঘাটে বাঘের মূর্তি ছিল বলে মানষের মুখে মুখে এই পুকুরের নাম হয়ে যায় বাঘেল পুকুর। যদিও বর্তমানে সেই ঘাটের আর কোনও অস্তিত্ব নেই।

দেবী ​শিবিকাচণ্ডীর নির্জন থানে উঁচু বেদীর উপর কিছুক্ষণ বসলে শিরশিরে হাওয়ার ফিসফিস শব্দে আজও যেন ভেসে আসে লক্ষ বলির পশুর আর্তনাদ। গ্রামের আঁকাবাঁকা অপ্রশস্ত পথ ধরে পৌঁছতে হয় দেবী ​শিবিকাচণ্ডীর থানে। স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস মা ​শিবিকাচণ্ডীর কাছে অন্তর দিয়ে কিছু কামনা করলে মা মনস্কামনা পূর্ণ করেন। ২০০৭ সাল থেকে মধুসূদন মেটের উদ্যোগে এখানে আবার নতুন করে দুর্গাপূজা শুরু হয়। পূজার ক’দিন মন্দির প্রাঙ্গণে নানা সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মানুষ ছাড়া আশেপাশের গ্রামের প্রচুর মানুষ এই পূজায় অংশগ্রহণ করেন। ভক্তদের মুখে বার বার ধ্বনিত হয়, জয় মা শিবিকাচণ্ডীর জয়।

(বোলপুর বা শান্তিনিকেতন থেকে সুপুরের পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো টোটোতেই দর্শন করা যায়৷ )

Advertisement