• facebook
  • twitter
Thursday, 12 March, 2026

লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ

তীব্র হইচইয়ের মধ্যেই কণ্ঠভোটে সিদ্ধান্ত

তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেল। কণ্ঠভোটে ওই প্রস্তাব বাতিল করে দেয় অষ্টাদশ লোকসভা। স্পিকারকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।

কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাওয়েদের আনা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুই দিনের আলোচনা চলছিল লোকসভায়। সেই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে বিরোধীরা দেশের গণতন্ত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

Advertisement

অমিত শাহ বলেন, ‘এই সংসদের দীর্ঘদিনের প্রথা হল পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে কাজকর্ম চলা। স্পিকার সব সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি শাসক দল এবং বিরোধী— উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন। সংসদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ীই স্পিকার অধিবেশন পরিচালনা করেন। এই সংসদ কোনও বাজার নয়, যেখানে যে কেউ ইচ্ছে মতো কথা বলবে। এখানে নিয়ম মেনেই সদস্যদের বক্তব্য রাখতে হয়।’

Advertisement

বিরোধীদের আচরণ নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান স্পিকারকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দিয়েছে। অথচ আপনারা সেই মধ্যস্থতাকারীকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। গত পঁচাত্তর বছরে সংসদের দুই কক্ষ মিলেই আমাদের গণতন্ত্রের ভিতকে অত্যন্ত শক্ত করেছে। সেই শক্ত ভিত নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।’

বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, ‘সংসদে বক্তব্য রাখার সময় এলেই কেউ কেউ জার্মানিতে চলে যান।’ এই মন্তব্যকে ঘিরেই লোকসভায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং বিরোধী সদস্যরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

অমিত শাহ আরও বলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন বিরোধী আসনে বসেছে। কিন্তু আমরা কখনও লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনিনি। ইতিহাসে তিন বার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল, কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি বা এনডিএ কখনও এমন পদক্ষেপ নেয়নি।’

অবশেষে তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই কণ্ঠভোটে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। সংসদে বিরোধীদের এই পদক্ষেপ এবং সরকারের পাল্টা আক্রমণ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

Advertisement