সেবাশ্রয় শিবিরকে ঘিরে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে প্রস্তুত হওয়া ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে আজ, শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, সেবাশ্রয় প্রকল্পের নামে সংঘটিত দুর্নীতির নথিও প্রকাশ করা হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসার নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীদের অঙ্গহানি, বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে জোরপূর্বক চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং শিবির সংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ওষুধ উদ্ধার। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনসহ পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে তৈরি হওয়া মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্টও বিধানসভায় পেশ করা হবে। সরকার জানিয়েছে, রিপোর্টগুলি নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা অন্য যে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হতে পারে।
শুক্রবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে সরব হন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। তাঁর অভিযোগ, শিবিরের নামে দীর্ঘদিন একটি খেলার মাঠ দখল করে রাখা হয়েছিল এবং সেই অস্থায়ী পরিকাঠামো সরিয়ে মাঠ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হবে। তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছেন।
বিজেপি বিধায়করাও অভিযোগ করেন, চিকিৎসার নামে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। কয়েকজন রোগী ভুল চিকিৎসার কারণে হাত বা পা হারিয়েছেন। এর জবাবে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, সেবাশ্রয় সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগ সরকারের নজরে এসেছে। সেই কারণেই শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেবেন।
এদিকে, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ অনুযায়ী, পায়ে সামান্য সমস্যার চিকিৎসা করাতে গিয়ে সংক্রমণের কারণে মালতী বিশ্বাস নামে এক মহিলার পা কেটে ফেলতে হয়েছে। একইভাবে, এক শিশুর ভুল চিকিৎসার ফলে তার হাত বাদ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উভয় ঘটনাতেই থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই শিবির পরিচালনা এবং চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল।
এছাড়া, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষ করে ক্যাগ তদন্তের যে রিপোর্ট এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি, সেটি আজ বিধানসভায় পেশ হওয়ার কথা। রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শেষে সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




