• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

আয়ারল্যান্ডের কাছে ঐতিহাসিক হারের কী কারণ ব্যাখ্যা করলেন অভিষেক শর্মা, শ্রেয়স আইয়ার?

ম্যাচের পর ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা স্পষ্ট স্বীকার করে নিলেন, সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারাই দলের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা

আয়ারল্যান্ডের কাছে ঐতিহাসিক হারের কী কারণ ব্যাখ্যা করলেন অভিষেক শর্মা, শ্রেয়স আইয়ার?

টি-২০-র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতের কাছে সফরের এমন সূচনা কি কেউ আশা করেছিল? বোধহয় না। কিন্তু বেলফাস্টে প্রথম টি-২০ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৪ রানে হেরে ইতিহাসের সাক্ষী হতে হল শ্রেয়স আইয়ারের দলকে। ম্যাচের পর ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা স্পষ্ট স্বীকার করে নিলেন, সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারাই দলের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। অধিনায়ক শ্রেয়সের গলায় অবশ্য অন্য সুর।

মাত্র ২০ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি অভিষেক শর্মা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের এটাই প্রথম হার। এর আগে দুই দেশের মধ্যে ন’টি টি-২০ ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে। একটিতেও জিততে পারেনি আইরিশরা। এতদিনে ভারতকে ঘরের মাঠে পেয়ে সেই সাধ পূরণ করে নিলেন লরক্যান টাকাররা। একই সঙ্গে ভারত অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারের যাত্রাও শুরু হল পরাজয় দিয়ে। দুই ম্যাচের সিরিজ আর জিতে ইংল্যান্ডে যেতে পারবে না টিম ইন্ডিয়া।

ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমরা কত দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি। যখন টানা ম্যাচ খেলতে হয়, তখন দল হিসেবে এগিয়ে এসে সেই পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠতেই হবে। অনুশীলনের সময় হোক বা ম্যাচের মধ্যেই হোক, যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি বুঝে নিতে হবে। আমার মনে হয়, একটা ভাল ও শক্তিশালী দলের খুব দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি। আজ আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা সম্ভব হয়নি।”

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক লরকান টাকারের অর্ধশতরান এবং গ্যারেথ ডিলানির ৪৯ রানের ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেটে ১৮২ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। শেষদিকে জর্জ ডকরেলের ক্যামিও ইনিংস আয়োজকদের বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করে। ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন হর্ষিত রানা (৩/২৪)। এছাড়া অর্শদীপ সিং ও অক্ষর পটেল দুটি করে উইকেট নেন।

১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। তবে ২০ বলে ৫০ রান করে তিনি আউট হওয়ার পরই ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং।

সঞ্জু স্যামসন (৫), ঈশান কিষাণ (১) ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার (৩)— কেউই বড় রান করতে পারেননি। তিলক বর্মা (১৯), ওয়াশিংটন সুন্দর (৯) ও অক্ষর পটেলও (১৫) ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন। শিবম দুবে ১৬ বলে ২৫ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তাঁর বিদায়ের পর ভারতের প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।আয়ারল্যান্ডের হয়ে ম্যাথিউ হলার্ড ও ম্যাথিউ হামফ্রিজ তিনটি করে উইকেট নেন।

অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের ব্যাখ্যা, টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের এত দিন পর একসঙ্গে ম্যাচে নামার কারণেই ছন্দের অভাব ছিল ভারতের। তিনি বলেন, “এত দিন পরে মাঠে একসঙ্গে নামার জন্যই এটা হয়েছে। তবে যা হয়ে গিয়েছে, সেটা আমরা পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চাই। এই ম্যাচ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। সেই শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, পরের ম্যাচে যেন পূর্ণ প্রস্তুতি ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে পারি এবং নিজেদের সেরাটা দিতে পারি।”

আয়ারল্যান্ডকে বড় ইনিংস গড়তে দেওয়ার জন্য বোলারদেরই দুষছেন অধিনায়ক। বলেন, “আমার মনে হয়, শুরুতে আমাদের বোলাররা দারুণ বল করেছিল। তারা বলকে দুই দিকেই মুভ করাতে পারছিল এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও তুলে নেয়। ফলে আমরা শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলাম। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারিনি। আমরা ওদের এমন এমন জায়গায় শট খেলার সুযোগ করে দিয়েছি, যেখানে সোজা ব্যাটে বল পাঠানো সহজ ছিল। আমরা জানতাম, মাঠের ওই দিকের বাউন্ডারিগুলো বেশ ছোট”।

এই প্রসঙ্গে শ্রেয়স আরও বলেন, “শেষের দিকে যখন রান আটকে রাখার প্রয়োজন ছিল, তখন আমাদের বোলাররা আবারও অসাধারণ পারফর্ম করেছে। আমার মনে হয়, যে শুরুটা আমরা পেয়েছিলাম, তাতে ১৪০ রানই আদর্শ লক্ষ্য হতে পারত। তবে যাই হোক, এখানে খেলাটা আমাদের জন্য দারুণ একটা অভিজ্ঞতা। এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পেলাম, উইকেট সম্পর্কে ভালো ধারণাও তৈরি হল। আর অধিনায়ক হিসেবে আমার যাত্রার একটা ভালো শুরু হল।”

ভারতের এই হারের জন্য সমাজমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকেই দায়ী করছেন দল নির্বাচনকে। প্রশ্ন উঠছে, কেন ফর্মে থাকা বৈভব সূর্যবংশীকে রাখা হল না প্রথম এগারোয়। শুক্রবার ম্যাচ শুরুর আগে এর ব্যাখ্যা দিয়ে শ্রেয়স বলেছিলেন, “বৈভব অসাধারণ প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটার। কিন্তু আমাদের দলে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছে, যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করে আসছে। তাই আপাতত আমরা তাদের ওপরই আস্থা রাখছি। সময় এলে বৈভব অবশ্যই সুযোগ পাবে।”

এখন মনে হচ্ছে সেই সময় এসে গিয়েছে এবং যেহেতু সিরিজ বাঁচাতে রবিবারের দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা নেই ভারতের সামনে, তাই বৈভবকে প্রথম এগারোয় দেখা যেতেও পারে। তবে এই দলের কোচ যেহেতু গৌতম গম্ভীর এবং তিনি তাঁর জেদের জন্য বিখ্যাত, তাই রবিবার একই দল নিয়ে মাঠে নামলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আয়ারল্যান্ড। অধিনায়ক লরক্যান টাকার বলেন, “এটা সত্যিই খুব বিশেষ একটা অনুভূতি। তবে পুরো কৃতিত্বটা আমি দলের ছেলেদেরই দিতে চাই। আমার মনে হয়, আমরা কঠিন লড়াই করে ম্যাচটা জিতেছি। ম্যাচের বেশ কিছু সময় আমাদের ওপর চাপ ছিল, কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনায় অটল ছিলাম, কঠোর পরিশ্রম করেছি। শেষ পর্যন্ত সেই পরিশ্রমেরই পুরস্কার পেয়েছি।”

পরের ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের সুযোগ নিয়ে টাকার বলেন, “নিজেদের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জিততে পারলে সেটা আমাদের পক্ষে একটা বড় কৃতিত্বের ব্যাপার হবে। আমার মনে হয়, দলের ছেলেরা আবার মাঠে নেমে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে মুখিয়ে রয়েছে। আজ মাঠের পরিবেশ ছিল অসাধারণ, দর্শকদের সমর্থনও ছিল দুর্দান্ত। সব মিলিয়ে দিনটা সত্যিই খুব বিশেষ ছিল।”