• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 5 July, 2026

অভিষেকের পর প্রথম পোস্টেই আবেগের বিস্ফোরণ! বৈভবের বার্তায় মুগ্ধ নেটদুনিয়া

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ পথ চলার জন্য শুধু প্রতিভাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা এবং বিনয়। বৈভবের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেই দুই গুণই স্পষ্ট।

অভিষেকের পর প্রথম পোস্টেই আবেগের বিস্ফোরণ! বৈভবের বার্তায় মুগ্ধ নেটদুনিয়া

Photo: X

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক তাঁর স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। আর সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা পোস্ট করে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ১৫ বছরের ‘বিস্ময়বালক’ বৈভব সূর্যবংশী। ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও, তাঁর প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টই জিতে নিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়।

ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সিনিয়র দলের জার্সি গায়ে প্রথম মাঠে নামেন বৈভব। আইপিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর থেকেই তাঁকে জাতীয় দলে দেখার দাবি উঠেছিল।

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুযোগ না পেলেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড সিরিজেই সেই প্রতীক্ষার অবসান হয়। আর ভারতের জার্সি গায়ে চাপানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেন এই কিশোর ক্রিকেট তারকা।

বৈভব লিখেছেন, “আজীবন মনে রাখার মতো একটি মুহূর্ত। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাছে এক স্বপ্ন সত্যি হওয়ার সমান। এই জার্সি পরার সম্মান অর্জন আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। যারা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং এই অভিযানে আমাকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। এ তো সবে শুরু। জয় হিন্দ।”

এই সংক্ষিপ্ত বার্তাই মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী, প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং সতীর্থরা শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দেন তরুণ ওপেনারকে। অনেকেই মন্তব্য করেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভবের কথাবার্তায় যে পরিণত মানসিকতার পরিচয় মিলেছে, সেটাই ভবিষ্যতের বড় ক্রিকেটারের লক্ষণ।

অভিষেক ম্যাচে বৈভবের ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র ১০ বলে ১৪ রান করে আউট হন তিনি। কিন্তু শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনো জড়তা ছাড়াই বড় শট খেলতে যাওয়ার মানসিকতা নজর কেড়েছে বিশেষজ্ঞদের।

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অভাব নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ পথ চলার জন্য শুধু প্রতিভাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা এবং বিনয়। বৈভবের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেই দুই গুণই স্পষ্ট।

একদিকে তিনি নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব পরিবার ও সমর্থকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন, অন্যদিকে “এ তো সবে শুরু”—এই একটি বাক্যই বুঝিয়ে দেয়, অভিষেককে তিনি গন্তব্য নয়, সূচনা হিসেবেই দেখছেন। এত অল্প বয়সে এই মানসিকতা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা।

আইপিএলের ঝলকানি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট—এই পথচলায় প্রত্যাশার চাপও থাকবে প্রবল। তবে বৈভবের প্রথম প্রকাশ্য বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি আলোড়নের চেয়ে নিজের ক্রিকেট নিয়েই বেশি মনোযোগী থাকতে চান। আর সেই কারণেই হয়তো তাঁর এই পোস্ট শুধু ভাইরালই হয়নি, ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার বার্তা।