ইডেন উদ্যানে রবিবার মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে চলেছে সূর্যকুমার যাদবের ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই খেলা অনেকটা ফাইনাল খেলার মতো। তাই এই ম্যাচটা দেখার জন্য সারা কলকাতা এখন ক্রিকেট জ্বরে আক্রান্ত। সবাই একটা টিকিট সংগ্রহ করার জন্য কলকাতার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছোটাছুটি করছেন। এমনকি সিএবি-র ছোট কর্মাকর্তাদের কাছেও ধরনা দিয়েছেন তাঁরা একটা টিকিট পাওয়ার আশায়। বড় কর্মাকর্তাদের সেই অর্থে সন্ধানই পাওয়া যাচ্ছে না। কে কী করবেন তা ভেবে উঠতে পারছেন না। শুধুই টিকিটের চাহিদা। কালোবাজারিতে প্রচুর টিকিট চলে গিয়েছে। তাই তারাও ওৎ পেতে বসে আছেন, কত চড়া দামে ওইসব টিকিট বিক্রি করা যাবে। পুলিশ প্রশাসন থেকে কড়া নজর রাখা হয়েছে, যাতে কেউই কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট না কিনতে পারেন। ময়দান চত্বরে সাদা পোশাকের প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা জবরদস্ত অনুশীলন করেছেন। গত ম্যাচে তাঁদের কোথায় ভুল হয়েছিল, তা শুধরে নেবার চেষ্টা করা হয়েছে। আসলে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ভালো করেই জানেন, এই ম্যাচটা জেতা ছাড়া কোনও পথ নেই। পাশাপাশি, ইডেন উদ্যান তাঁদের প্রিয় মাঠ। সেখানে ভারতীয় দলকে সমর্থন জানানোর জন্য প্রচুর দর্শক গ্যালারিতে ভিড় করবেন। তাঁদের অনুপ্রেরণায় দলের প্রতিটি খেলোয়াড় আরও উৎসাহিত হয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করবেন। শুধু তাই নয়, টস একটা ফ্যাক্টর হবে। প্রথমে যাঁরা ব্যাট করবেন, তাঁরা হয়তো একটু বাড়তি সুযোগ পেতে পারেন। তার প্রধান কারণ হল, যত রাত হবে, ততই উইকেট শিশিরে ভিজবে। তখন বোলাররা বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিতে পারেন।
Advertisement
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেক সময়ই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই কারণে পরিকল্পনামাফিক খেলা খেলে ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করবেন হেটমায়াররা। তাই অধিনায়ক সাই হোপ বলেছেন, কোনওভাবেই ভারতকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। ইডেনের উইকেটে ঝড় তুলতে খেলোয়াড়রাও প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি ভারতীয় দলে বেশ কয়েকজন দক্ষ বোলার রয়েছেন। তাই তাঁদের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের ব্যাটসম্যানরাও প্রস্তুত রয়েছেন। এটা মনে রাখতে হবে, কোনওভাবেই হালকা চালে খেলা হবে না।
Advertisement
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ আমির জোর গলায় বলেছেন, ভারতের কোনওভাবেই সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জয় পেলেও, মনে রাখতে হবে, এই দলটার নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রবিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের জয় পাওয়া বেশ কঠিন। আবার ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও সিএবি-র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, সূর্যকুমার যাদবরা যেভাবে খেলে চলেছেন, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো কোনও কঠিন ব্যাপারই নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে ভুলগুলি তারা করেছিল, তা অবশ্যই শুধরে নিতে পেরেছে জিম্বাবোয়ের ম্যাচে। আশা করব, আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে ভারতীয় দল এই চ্যালেঞ্জে জয়লাভ করবে এবং শেষ চারে খেলার ছাড়পত্রটা তাদের হাতেই চলে আসবে। সিএবি-র প্রাক্তন সচিব বিশ্বরূপ দে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধারাবাহিক সাফল্য ভারতীয় দলের কাছে বড় হাতিয়ার।
তবে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচটা হেরে যাওয়াটা অনেকটা ভাগ্য। সূর্যকুমার যাদব থেকে শুরু করে অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, তিলক ভার্মা, শিবম দুবে, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও রিঙ্কু সিংরা দুরন্ত ভূমিকা পালন করেছেন। রিঙ্কু হয়তো এই ম্যাচে থাকছেন না। তবুও ভারতীয় দল একটা ছন্দে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় দল অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে দাপট দেখাতে দেবে না। বরঞ্চ ভারতীয় দল অনেকটাই এগিয়ে থেকে ইডেন উদ্যানে জয়ের মুখ দেখবে বলে বিশ্বাস।
Advertisement



