• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 5 June, 2026

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সংলাপ ও কূটনীতির উপরই জোর দিল ভারত। যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ হল আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সংলাপ ও কূটনীতির উপরই জোর দিল ভারত। শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানান, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ হল আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ।

সাংবাদিক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমমির জেলেন্সকির সাম্প্রতিক খোলা চিঠি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। ওই চিঠিতে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ কোনও স্থানে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গেই ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক। আমরা বিশ্বাস করি, দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ।”

তিনি আরও বলেন, ভারত সবসময় শান্তির পক্ষেই দাঁড়িয়েছে এবং যে কোনও সংঘাতের সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে হওয়া উচিত বলেই মনে করে।

উল্লেখ্য, ৪ জুন প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি রাশিয়ার নেতৃত্বকে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। চিঠিতে তিনি যুদ্ধের দায় সম্পূর্ণভাবে পুতিনের উপর চাপিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ কোনও বাস্তব কারণ ছাড়া শুরু হয়েছে এবং ইতিহাস একে সেইভাবেই স্মরণ করবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, গত ২৬ বছরের শাসনকালের প্রায় অর্ধেক সময় যুদ্ধের মধ্যেই কাটিয়েছেন পুতিন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিপুল মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান শতাব্দীতে কোনও সেনাবাহিনীর পক্ষে এত উচ্চ হারে প্রাণহানি দীর্ঘমেয়াদে বহন করা সম্ভব নয়।

তবে একইসঙ্গে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেন যে ইউক্রেন স্থায়ী যুদ্ধ চায় না। তাঁর কথায়, “যুদ্ধহীন জীবন যে অনেক ভালো, তা আমরা জানি। তাই এই সংঘাতের অবসান চাই।” তিনি যুদ্ধবন্দিদের ‘অল-ফর-অল’ বিনিময়ের প্রস্তাবও দেন, যা শান্তি আলোচনার সূচনা হতে পারে বলে মনে করেন।

চিঠিতে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জেলেনস্কি। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে রাশিয়া ক্রমশ অন্যান্য দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার প্রতি ক্লান্তি বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের বার্তা স্পষ্ট— যুদ্ধ নয়, আলোচনাই শান্তির পথ। আর সেই অবস্থানেই অটল রয়েছে নয়াদিল্লি।