• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 22 July, 2026

‘চাইলে জামা-কাপড় খুলে রাস্তায় মারতে পারি’, অভিষেককে কড়া তোপ দিলীপের

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে এখন উত্তাল দিল্লি। সেখানে যে আন্দোলন চলছে তাতে সামিল হতে চান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘চাইলে জামা-কাপড় খুলে রাস্তায় মারতে পারি’, অভিষেককে কড়া তোপ দিলীপের

Dilip Ghosh Photo-SNS

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বিজেপি এবং তাঁদের নেতা-মন্ত্রীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা শুনেছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ। এমনকী দলের কর্মী-সমর্থকদের সমাবেশে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। আর নয়াদিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে তোলপাড় গোটা দেশ। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন বলেও মঞ্চ থেকে জানিয়েছেন। এবার সবকিছু নিয়ে কড়া জবাব দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

বুধবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ব্যায়াম করেন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক জবাব দেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এদিন দিলীপ ঘোষ কড়া ভাষায় বলেন, ‘আমরা তো কিছুই করিনি, চাইলে জামা-কাপড় খুলে রাস্তায় মারতে পারি। দিন পাল্টেছে। তাই আপনারা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে যা করেছেন, আমি কিছুই করিনি। চাইলে জামা-কাপড় খুলে রাস্তায় মারতে পারতাম। এখনও চাইলে পারি।’ তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন বারবার বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, শাসকদলের হাতে আক্রান্ত তাঁদের কর্মীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জেপি নাড্ডার গাড়িতে হামলা হয়েছিল। তবে এখন সময়ের চাকা ঘুরেছে। এখন শাসকের আসনে বিজেপি, বিরোধী তৃণমূল সে কথাও মনে করিয়ে দেন মন্ত্রী।

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে এখন উত্তাল দিল্লি। সেখানে যে আন্দোলন চলছে তাতে সামিল হতে চান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কড়া ভাষায় মন্ত্রী বলেন, ‘ওনাকে কে ডেকেছে যন্তর মন্তরে? ওনাকে ডাকারও তো লোক নেই। সঙ্গে যাওয়ারও লোক নেই। যাঁরা ভাবছে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কার মতো উৎপাত তৈরি করবে তাঁরা ভুলে যাবেন না এটা ভারত। এখানকার মানুষ চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেন। কিছু লোক বিদেশি টাকায় রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্য নেতাদের কথায় নাচানাচি করছে। কদিনের মধ্যে ঠান্ডা হয়ে যাবেন। উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব এই সমস্ত হারিয়ে যাওয়া পরিত্যক্ত বা রিজেক্টেড নেতারা পালে হাওয়া টানার চেষ্টা করছে। মানুষ ওদের সঙ্গে নেই। দুনিয়ার চোর ডাকাত নেতা ওখানে গিয়ে উৎপাত করছে। ওদের অভ্যাস কখনও ছাত্র কখনও মহিলা কখনও কৃষকদের সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা করা। দেশে অব্যবস্থা তৈরি করা। দেশ আজ দুরন্ত গতিতে এগোচ্ছে।’

তাছাড়া আগের দিলীপ ঘোষের সঙ্গে এখনকার দিলীপ ঘোষের মধ্যে যে পার্থক্য আছে সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। তাই পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কড়া ভাষায় তোপ, ‘আগের দিলীপ আর এই দিলীপ এক নয়। সংযম দেখাচ্ছি ভুলে যাবেন না। বিজেপি কাউকে মেরেছে বা আটকেছে বলে আমি শুনিনি। নিজেদের দুর্বলতাকে ঢাকতে ওরা এসব রটাচ্ছে। দিন পাল্টেছে বলে তো আপনাদের এই দিনটা দেখতে হলো। এটা দেখবে বলেই তো পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন করেছে। আমার সঙ্গে একসময় ওরা যা করেছিল তার বদলে আমি তো কিছুই করিনি। যদি করতাম তাহলে টেনে রাস্তায় নামিয়ে জামা-কাপড় খুলে পেটাতাম। এখনও করতে পারি। কিন্তু আমাদের একটা সংস্কার আছে। নীতি আদর্শ আছে। আমরা করব না সেটা।’