বৃহস্পতিবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দী মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, মঙ্গলবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বিপক্ষে ইরাকের আল শোর্তা। তবে আপাতত এএফসি ম্যাচের ভাবনা মাথা থেকে পুরোপুরি বার করে দিয়ে বসে রয়েছেন লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। এই মুহূর্তে আইএফএ শিল্ড ফাইনালই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু লক্ষ্মীবারের শিল্ড ফাইনালে পুরো দল কি হাতে হাতে পাবেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ? বিদেশিদের পেলেও জাতীয় দল ফেরৎ ফুটবলারদের খেলার মতো অবস্থায় পাবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তিত হাবাস।
বুধবার তিনি সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলা খেলোয়াড়দের কত মিনিট খেলানো সম্ভব, সেটা আমাদের ঠিক করতে হবে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা দু’দিন আগেই ম্যাচ খেলেছে। তাই ওদের দিয়ে পুরো ম্যাচ খেলানো বেশ কঠিন। সত্যি বলতে, আগামীকালের প্রথম একাদশ নিয়ে আমি এখনও কিছুটা দ্বিধায় রয়েছি’।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘যারা জাতীয় দল থেকে ফিরছে, তাদের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হবে। এখন আমি তাদের অনুশীলনে দেখব এবং তাদের সঙ্গে কথা বলব— আগামীকাল খেলার মতো তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে কেমন অনুভব করছে, সেটা আমাকে জানতে হবে। আমাদের একজন খেলোয়াড় গত তিনটি ম্যাচে ৯০ মিনিট করে খেলেছে। আবার অন্য খেলোয়াড়রা অতটা খেলেনি। তাই প্রত্যেকের আলাদা করে মূল্যায়ন করতে হবে। তার পরে সিদ্ধান্ত নেব।
কিছু খেলোয়াড় এখনও জাতীয় দলের ম্যাচ নিয়েই ভাবছে— ব্রাজিলের বিরুদ্ধে, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে, পানামার বিরুদ্ধে তারা খেলেছে। মানসিকভাবে এটা একটা বড় প্রভাব ফেলে। কারণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এবং একটা ক্লাব ফাইনাল খেলা এক বিষয় নয়’।
প্রথম এগারো নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও শিল্ডের ফাইনালের জন্য যে তাঁর দল পুরোপুরি প্রস্তুত, তা জানিয়ে দিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ। বলেন, ‘আমরা ফাইনালের জন্য ১০০ শতাংশ প্রস্তুত। আমি আমার খেলোয়াড়দের উপর আস্থা রাখি এবং প্রতিপক্ষকে আমরা সম্মান করি। আমাদের লক্ষ্য হল, এমন একটা ম্যাচ খেলা, যা ডুরান্ড কাপ ফাইনালের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে’।
এএফসি ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠতেই হাবাস বলেন, ‘আমরা পেশাদার। এই মুহূর্তে আমাদের ১০০ শতাংশ মনোযোগ মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচে। এএফসি ম্যাচ নিয়ে এখন আমরা ভাবছি না। কারণ ওই ম্যাচের আগে আমাদের আরও চার-পাঁচ দিন সময় রয়েছে এবং সেই ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আমরা পাব। তাই এখন শুধু কালকের ম্যাচ নিয়েই ভাবছি’।
অগাস্টের শেষ দিকে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১-এ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্টবেঙ্গল। এডমন্ড লালরিন্ডিকার হ্যাটট্রিক লাল-হলুদ বাহিনীকে রীতিমতো দাপুটে জয় এনে দেয়। বিপিন সিং আর একটি গোল করেন। মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন মনবীর সিং।
তবে সেই ফাইনালের পরিস্থিতি আর কালকের শিল্ড ফাইনালের পরিস্থিতি একরকম নয় বলেই মনে করেন স্প্যানিশ ফুটবল-গুরু। তিনি বলেন, ‘দুটো ম্যাচ সম্পূর্ণ আলাদা। ডুরান্ড কাপের ফাইনাল এবং শিল্ডের ফাইনাল এক নয়। এবার পরিস্থিতি আলাদা, কারণ আমাদের সামনে এএফসি-র একটি ম্যাচ রয়েছে, যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন খেলোয়াড়কে কত মিনিট খেলানো হবে, অন্য একজনকে কতটা খেলানো হবে— সেটা ব্যালান্স করতে হবে।
কাউকে বেশি সময় খেলানো যাবে না, আবার কাউকে খুব কম সময়ও খেলানো যাবে না। এটাই আমাদের পরিকল্পনা। তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের পক্ষে এটা কঠিন। কারণ, মোহনবাগানের সামনে এখন এমন কোনও ম্যাচ নেই। কিন্তু আমাদের কাছে এএফসি-র ম্যাচটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই খেলোয়াড়দের ব্যবহার করার বিষয়টা আমাদের ঠিকমতো করতে হবে। সেজন্যই এই ফাইনালটা আলাদা’।
ফাইনালের পরিকল্পনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে হাবাস বলেন, ‘আমরা অবশ্যই প্রতিপক্ষকে সম্মান করি। কিন্তু কাল আমাদের নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং যখন গোল করার সুযোগ আসবে, তখন গোল করতে হবে। সংগঠিত এবং কৌশলগতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের ৯০ মিনিটই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। খুব বেশি ওঠানামা করা যাবে না— বারবার আক্রমণাত্মক, আবার পিছিয়ে যাওয়া— এভাবে নয়। পুরো ৯০ মিনিট ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে’।
মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল কয়েথ যে ফর্মে রয়েছেন, তাতে ম্যাচ টাই ব্রেকারে গেলে সমস্যা হতে পারে, তাঁকে এ কথা মনে করিয়ে দিতেই হাবাস বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা কোনও ফ্যাক্টর নয়। ম্যাচ পেনাল্টিতে গেলেও ম্যাচ জেতা সম্ভব। কিন্তু আমি চাই ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ জিততে।কারণ, ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ জিততে না পারলে অতিরিক্ত সময়ে যেতে হবে, আর সেটা দলের পক্ষে মোটেই ভালো নয়। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ জেতা’।




