সাড়ে তিনশোর বেশি রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করল ভারত। প্রথম ইনিংসে ৪৬২ তোলা ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে অল আউট হয়ে গেল ১৯৩ রানে। যদিও এতে অশনি সঙ্কেত দেখার মতো কিছু হয়নি। শ্রীলঙ্কাকে এই ম্যাচে জিততে হলে ৩৭২ রান তুলতে হবে। আর ভারতকে এই ম্যাচ জিততে হলে দশটি উইকেট তুলতে হবে। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ২৮৪ রানে শেষ করে দেওয়া ভারত দশ উইকেট তুলে এই টেস্ট জয়ের রাস্তা তৈরি করতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার।
মঙ্গলবার টেস্টের চতুর্থ দিনে ভারতের লিড ৩৭০ রান পেরিয়ে যাওয়ার বড় কৃতিত্ব অবশ্যই দাবি করতে পারেন দেবদ্ত্ত পাড়িক্কল (৪৪), কে এল রাহুল (৩৫) এবং ঋষভ পন্থ (৬৬)। বিশেষ করে পন্থ রীতিমতো নজর কাড়া ব্যাটিং করেন। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে দেয় এবং ভারতের লিড আরও বাড়াতে সাহায্য করে।
টেস্ট ক্রিকেটে ১০০টি ছক্কা মারা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হলেন পন্থ। শুধু তাই নয়, বিশ্বের দ্রুততম ব্যাটার হিসাবে এই মাইলফলকে পৌঁছেও বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। মাত্র ৫১টি টেস্টেই ১০০ ছক্কা পূর্ণ করলেন পন্থ।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সময় এই কীর্তি গড়েন তিনি। ম্যাচ শুরুর আগে তাঁর নামের পাশে ছিল ৯৭টি টেস্ট ছক্কা। প্রথম ইনিংসে একটি ছক্কা মেরে ক্রিস গেলের ৯৮ ছক্কার রেকর্ড স্পর্শ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দু’টি ছক্কা মেরে ১০০-তে পৌঁছে যান পন্থ।
গল-এ পন্থের ব্যাটিং ভারতের লিড বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথম ইনিংসে ৩৯ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তিনি। ৬৯ বলে ৬৬ রান করে আউট হন পন্থ। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে পারে ভারত এবং শ্রীলঙ্কার সামনে বড় রান তাড়া করার চাপও তৈরি করল তারা।
প্রথম ইনিংসে পন্থের ব্যাটিং নিয়ে আগেই সমালোচনা হয়েছে। সে দিন তাঁর ৩৯ রানের ইনিংসটি শেষ হয়ে যায় আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই আগ্রাসনই ভারতের লিড দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।
পন্থ আউট হওয়ার আগে এবং পরে শ্রীলঙ্কার কৌশলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা যায়। বিষয়টি বেশ অবাক করার মতোও, কারণ পন্থ আউট হওয়ার পর ভারতীয় ব্যাটাররা শেষ দিকে কার্যত শুধু ক্রিজে টিকে থাকার চেষ্টা করেন।
এ দিন দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার পর ভারতীয় ব্যাটাররা সাড়ে বারো ওভারে ৫০ রান তোলেন। শ্রীলঙ্কার পেসাররা একের পর এক শর্ট বল করে ভারতীয় ব্যাটারদের যথেষ্ট সমস্যায় ফেলেন। ৮১ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান জয়সোয়াল (০), রাহুল ও শুভমান (৮)। পাড়িক্কল ও পন্থের ৩০ রানের পার্টনারশিপ এবং রবীন্দ্র জাদেজা (৯) ও পন্থের ৫৪ রানের পার্টনারশিপই শেষ পর্যন্ত ভারতকে দেড়শোর গণ্ডী পার করিয়ে দেয়।
এই ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বোলাররা অনেক বেশি কার্যকর হয়ে ওঠেন। অসিথা ফার্নান্দো চার উইকেট এবং প্রভাত জয়সূর্য তিন উইকেট নেন। লাহিরু কুমারা দু’উইকেট নেন। ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই ফের আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে এবং বৃষ্টিও নামে। ফলে ম্যাচে তৈরি হয়েছে আরও এক নতুন অনিশ্চয়তা। হার এড়াতে শ্রীলঙ্কা অবশ্য চাইবে বেশিরভাগ সময়ই কাটুক বৃষ্টির মধ্যে। উল্টোদিকে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থাকলে ভারতীয় পেসারদেরও সুবিধা হবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপকে ফের অল্প রানে গুটিয়ে দিতে। গলের আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত কার পাশে দাঁড়াবে, সেটাই দেখার।




