ব্যালন ডি’অর জয়ের পরে প্রথম ইউরোপীয় ম্যাচ। লক্ষ্য ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর একটি বিশেষ রেকর্ড স্পর্শ করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হল না হ্যারি কেনের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১১টি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড রয়েছে রোনাল্ডোর। সেই নজির স্পর্শ করতে প্রয়োজন ছিল আর একটি গোল। কিন্তু আতলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে গোল পেলেন না বায়ার্ন মিউনিখের ইংরেজ অধিনায়ক। তবে কেন গোল না পেলেও ২-০-য় ম্যাচ জিতল বায়ার্ন।
অন্য দিকে, মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের উৎসব করল প্যারিস সঁ জরমাঁ (পিএসজি)। স্পেনের ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে ৬-০ গোলে জিতল লুই এনরিকের দল। ম্যাচের প্রথম ১৭ মিনিটেই চার গোল করে প্রতিপক্ষকে কার্যত শেষ করে দেয় তারা। এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকায় তিন পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল পিএসজি।
রোনাল্ডোর রেকর্ড ছোঁয়া হল না কেনের
গত সপ্তাহেই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেন। প্রথম ইংরেজ ফুটবলার হিসাবে ২০০১ সালের পরে এই সম্মান পেয়েছেন তিনি। ফলে অ্যাটলেটিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০টি ম্যাচে গোল করেছিলেন বায়ার্নের তারকা। লক্ষ্য ছিল রোনাল্ডোর ১১ ম্যাচে টানা গোলের রেকর্ড স্পর্শ করা।
কিন্তু আতলেটিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেননি কেন। যদিও গোল না পেলেও দলের দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমে লেনার্ট কার্ল গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন। তার পরে ৭৪ মিনিটে কেনের পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান কনরাড লাইমার। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানির ক্লাব।
ভিয়ারিয়ালকে উড়িয়ে দিল পিএসজি
স্পেনের মাটিতে এ দিন কার্যত একতরফা ফুটবল খেলল পিএসজি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যে চার গোল করে নেয় ফরাসি ক্লাবটি। জোয়াও নেভেস, দেজিরে দুয়ে, সেনি মায়ুলু এবং ফাবিয়ান রুইজ গোল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রুইজ। ৭৮ মিনিটে পরিবর্ত হিসাবে নামা ডেভিড বলি ষষ্ঠ গোলটি করেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০টি ম্যাচ জয়ের নজির গড়ল লুই এনরিকের দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শীর্ষস্থানেও তাদের দাপট বজায় রইল।
বার্সেলোনার জয়, ঘুরে দাঁড়াল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড
অন্য দিকে, অ্যাস্টন ভিলার অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে দিল বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে জিতল তারা। শুরুতেই লামিনে ইয়ামাল গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল বার্সেলোনা।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের। রোমার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল মাইকেল ক্যারিকের দল। মাতিয়াস সুলে এবং ডোনিয়েল মালেন গোল করে রোমাকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনো ফের্নান্দেস পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান। তার পরে জোড়া গোল করে ইউনাইটেডকে ৩-২ ব্যবধানে জেতান মাতেউস কুনিয়া। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন তিনি। সব মিলিয়ে টানা ন’টি ম্যাচ জয়হীন থাকার পর এই জয় স্বস্তি দেবে কোচ মাইকেল ক্যারিককে।
ফেনেরবাখের মাঠে ইন্টারের জয়
ফেনেরবাখের মাঠে ৩-০ গোলে জিতল ইন্টার মিলান। প্রথমার্ধে ইয়ান বিসেক এবং পিও এস্পোসিতোর গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার। দ্বিতীয়ার্ধে পিওতর জিয়েলিনস্কির গোলে ব্যবধান বাড়ে। অর্থাৎ, ইন্টারের তিন গোলদাতা বিসেক, এস্পোসিতো এবং জিয়েলিনস্কি।
এ ছাড়াও জয় পেয়েছে গালাতাসারে, স্পোর্টিং এবং লাস্ক। বোদো/গ্লিমট্ ও লিলের ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে।




