ভারতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক কমিটির প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে অনেক দিন ধরেই। এর মধ্যেই এল এক নতুন মোড়। অজিত আগরকরের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে যিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছিল, সেই পার্থিব প্যাটেলই শেষ পর্যন্ত নির্বাচকের পদের জন্য আবেদন করলেন না। ফলে আপাতত প্রধান নির্বাচক হিসাবে প্রজ্ঞান ওঝারই দায়িত্বে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
আবেদন জমার শেষ দিনেও পার্থিবের নাম নেই
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পুরুষদের সিনিয়র নির্বাচক কমিটিতে পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য আবেদনের শেষ দিন ছিল বুধবার, ১৪ অক্টোবর। কিন্তু বিকেল ৫টা পর্যন্ত পার্থিবের কোনও আবেদন জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে বোর্ডের একটি সূত্র।
ওই সূত্র জানিয়েছে, ‘বিসিসিআই আবেদনের সময়সীমা বাড়াবে কি না, তা জানা নেই। তবে ১৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত পার্থিব আবেদন করেননি। সময়সীমা বাড়ানো হলে বা তিনি মত বদলালে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে’।
অর্থাৎ, এখনই পার্থিবের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছে, এ কথা বলা যাচ্ছে না। বোর্ড আবেদনের সময়সীমা বাড়ালে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তবে আপাতত তাঁর নির্বাচক হওয়ার দৌড়ে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
প্রজ্ঞান ওঝা কেন এগিয়ে?
আগরকরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রাক্তন বাঁহাতি স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা। দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধি ওঝা ভারতের হয়ে ২৪টি টেস্ট খেলেছেন। নির্বাচক কমিটির বর্তমান সদস্যদের মধ্যে তাঁর টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা বেশি হওয়ায় স্থায়ী ভাবে প্রধান নির্বাচক হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছেন।
আগরকরের জায়গায় নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই পার্থিব ও ওঝার নাম নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু পার্থিব আবেদন না করায় ওঝার দায়িত্বে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে বোর্ডের তরফে এখনও সরকারি ভাবে কোনো ঘোষণা হয়নি।
দৌড়ে রমেশ পাওয়ার, উঠে আসছে সমীর দিঘের নামও
পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচক পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে উঠে আসছে আরও দু’টি নাম—প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার রমেশ পাওয়ার এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার সমীর দিঘে। এর আগে নির্বাচকের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে দু’জনেই আবেদন করেছিলেন।
জুনিয়র পুরুষ দলের নির্বাচক কমিটির প্রধান হওয়ার সম্ভাবনা ছিল পাওয়ারের। এ বার সিনিয়র দলের নির্বাচক পদেও তাঁকে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা সীমিত হওয়ায় বিসিসিআই আবেদনের সময়সীমা বাড়ায় কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
আপাতত গুজরাত টাইটান্সেই মন পার্থিবের
পার্থিব আবেদন না করায় আপাতত তাঁর গুজরাত টাইটান্সের কোচিং ও স্কাউটিং সংক্রান্ত দায়িত্ব এবং ধারাভাষ্যের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটিতে যোগ দেওয়ার বদলে সেই কাজগুলিতেই মন দিতে পারেন তিনি।
তবে বিসিসিআই সময়সীমা বাড়ালে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হতে পারে। আপাতত তাই প্রশ্ন একটাই—পশ্চিমাঞ্চলের শূন্য পদে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে বোর্ড? আর সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সিনিয়র নির্বাচক কমিটির স্থায়ী প্রধান কে হবেন, সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও।




