কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার অভিযোগে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার অনুসূয়া সাহাকে ঘিরে তদন্তে একাধিক প্রশ্ন। বুধবার আলিপুর আদালতে তাঁকে পেশ করা হয়। প্রথমে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে তাঁর জামিন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কী কারণে কালীঘাটে গিয়েছিলেন অনুসূয়া? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ঠিক কী ঘটেছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) রাহুল দে বলেন, “কী কারণে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার কালীঘাটে গিয়েছিলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কী ঘটেছিল, সে সব আমরা খোঁজ নিচ্ছি।” লালবাজার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে অনুসূয়ার বিরুদ্ধে। কেন তিনি কাজে আসছিলেন না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ ও অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে মমতাকে হেনস্থার ঘটনা ঘটে। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের অভিযোগ, ধারালো ছুরি হাতে মমতার উপর হামলার চেষ্টা করেন অনুসূয়া। নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি, দাবি দোলার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। অভিযুক্ত মাদকাসক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেছেন দোলা। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
অনুসূয়ার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সঙ্গে কালীঘাটের ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দু’টি বিষয়কে একই সূত্রে বাঁধার মতো কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযুক্তের পরিচয়, কর্মস্থলের নথি, ঘটনার আগে ও পরে তাঁর গতিবিধি-সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এই ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে কী ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল, ঘটনার সময় নজরদারির দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, অনুসূয়াকে ঘিরে তদন্তে এখন মূলত তিনটি বিষয়—মমতাকে হেনস্থার অভিযোগ, কালীঘাটে তাঁর উপস্থিতির কারণ এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার নেপথ্যের রহস্য। তদন্তের অগ্রগতিতেই স্পষ্ট হবে, এই ঘটনাগুলির মধ্যে আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি না।




