• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 29 August, 2026

কাউন্টির দ্বিতীয় ডিভিশনের দলের সঙ্গে তুলনা, পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে বেজায় চটলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক

ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন ঠিকই, কিন্তু ক্রিজে সময় কাটাতে পারলে তার ফলও পাওয়া যায়। প্রথম ৩০-৪০টি বল ব্যাটারদের জন্য কঠিন। কিন্তু সেই সময়টা পার করে দিতে পারলে ব্যাটিং অনেক সহজ হয়ে যায়, যেমনটা আজান করেছে।

কাউন্টির দ্বিতীয় ডিভিশনের দলের সঙ্গে তুলনা, পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে বেজায় চটলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক

Photo: X

লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টেও পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের করুণ দশা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়েছে বাবর আজমের দল। প্রথম টেস্টে ইনিংস হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেও একই ছবি। পাকিস্তানের এমন পারফরম্যান্স দেখে তাদের সরাসরি আক্রমণ করলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভন। তাঁর কথায়, ‘পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনও ‘দ্বিতীয় ডিভিশনের কাউন্টি দল’ খেলছে!

প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল তারা। কিন্তু প্রথম ইনিংসেই ১১০ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় সেই আশা কার্যত আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে। ম্যাচের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ার আগে ইংল্যান্ডের হাতে ছিল ২৬১ রানের বিশাল লিড।

পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে ভন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, ইংল্যান্ডের বোলারদের একেবারেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে না। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে সহজ ব্যাটিং লাইন-আপ, যাদের বিরুদ্ধে বল করতে দেখেছি। বোলাররা যেন সবাই উইকেট পাওয়ার আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছে’।

এখানেই থামেননি ভন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের কোনও ব্যাটারই ইংল্যান্ডের বোলারদের চাপে ফেলতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘কেউ তো আঘাত পাওয়ার ভয়ই পাচ্ছে না। এমন কোনও ব্যাটার নেই যে ওদের সমস্যায় ফেলবে বা ওদের বোলিংয়ের পরিসংখ্যান খারাপ করে দেবে। ব্যাপারটা যেন—এসো, এসো, কে উইকেট নিতে চাও?’

ভনের মতে, পাকিস্তানের ব্যাটিং এতটাই দুর্বল যে ইংল্যান্ডের বোলাররা প্রতিটি স্পেলেই সর্বস্ব দিয়ে আক্রমণ করতে পারছেন। তিনি বলেন, ‘সবাই জানে পাকিস্তান বড় রান করতে পারবে না। তাই ৪০-৫০ ওভারই হয়তো বোলিং করতে হবে। ফলে প্রতিটি স্পেলে সবটা উজাড় করে দেওয়া যায়। এমনকী, জো রুটকে গিয়েও বলা যায়, ‘আর একটা ওভার বল করব?’ কারণ উইকেট পড়ে রয়েছে প্রচুর’।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আজান আওয়াইস। ১০২ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সৌদ শাকিলের—মাত্র ১৬। বাকিদের কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছতে পারেননি। ফলে দলের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র হয়েছে।

এর পরেই পাকিস্তানের ব্যাটিংকে দ্বিতীয় ডিভিশনের কাউন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনা করেন ভন। তিনি বলেন, ‘ওরা এখনও ভাল বল করছে এবং বিপজ্জনকও দেখাচ্ছে। এই বোলিং আক্রমণ যদি এ ভাবেই বল করতে থাকে, তা হলে আরও ভাল ব্যাটিং লাইন-আপকেও সমস্যায় ফেলতে পারবে। কিন্তু এটা পাকিস্তানের ব্যাটিং। এটা কি দ্বিতীয় ডিভিশনের কাউন্টি ক্রিকেট? টেস্ট ম্যাচের ব্যাটিং লাইন-আপ বলার মতো কোনও মানই ওদের ব্যাটিংয়ে দেখা যাচ্ছে না’।

পাকিস্তানের এই বিপর্যয়ের মধ্যে অবশ্য বাবর আজমও ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারছেন না। দ্বিতীয় টেস্টে ফিরেও বড় রান করতে পারেননি তিনি। ফলে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবরকে নিয়েও সমালোচনা আরও বাড়ছে।

পরপর দুই টেস্টে দলের ব্যাটিংয়ের এই দুর্দশা দেখে কোচ সরফরাজ খানের প্রতিক্রিয়া, ‘ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দুই টেস্টেই আমরা ভাল ব্যাটিং করতে পারিনি। ব্যাটিংকে আরও শক্তিশালী করার মতো একটা দলগত কম্বিনেশন তৈরি করার চেষ্টা করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, এই ইনিংসেও সেটা কাজে এল না। দল বার বার ৩০-এর মতো ওভারেই অলআউট হয়ে যাচ্ছে,’ বলেন সরফরাজ।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ক্রিজে যথেষ্ট সময় কাটাতে পারছি না। ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন ঠিকই, কিন্তু ক্রিজে সময় কাটাতে পারলে তার ফলও পাওয়া যায়। প্রথম ৩০-৪০টি বল ব্যাটারদের জন্য কঠিন। কিন্তু সেই সময়টা পার করে দিতে পারলে ব্যাটিং অনেক সহজ হয়ে যায়, যেমনটা আজান করেছে। একজন ব্যাটারের জন্য প্রথম এক ঘণ্টা ভাল টেকনিকের প্রয়োজন। আর ব্যাটিং ইউনিট হিসাবেও সেই সময়টা ভাল ভাবে সামলাতে হবে’।