মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় সারা বছরের জমানো টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন শহরের হাজার হাজার তরুণ। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছিল প্রতারণায়। মেসির ম্যাচের টিকিট কেটে প্রতারিত হওয়া প্রায় ৩৩ হাজার দর্শকের টাকা ফেরানোর উদ্যোগ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনেক সাধারণ মানুষ, এমনকি জোম্যাটো ডেলিভারি কর্মীরাও ৪,০০০, ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করে টিকিট কিনেছিলেন। পরে তাঁরা প্রতারণার শিকার হন। ওই দর্শকদের টাকা কী ভাবে ফেরানো যায়, তা নিয়ে সরকার জোরকদমে কাজ করছে। টাকা ফেরানো সম্ভব হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন জাতীয় ক্রীড়া দিবসের মঞ্চ থেকে রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোরও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অবহেলা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ক্রীড়া সংস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বাংলার ক্রীড়া পিছিয়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে আগামী আট মাসের বাজেটে ক্রীড়া দফতরের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৈরি হবে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম। সেখানে থাকবে টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন এবং জিমের মতো আধুনিক সুবিধা। প্রথম বছরে ১০০টি স্টেডিয়াম তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জীর্ণ হয়ে থাকা শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়াম এবং অচল জেলা ও মহকুমা ক্রীড়া সংস্থাগুলিকেও ফের সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও বদল আনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পদক জেতার পর পুরস্কারের বদলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জনের পর থেকেই অ্যাথলিটদের সাহায্য করা হবে। পুলিশ-সহ সরকারি নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রে ক্রীড়া কোটায় চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। চালু হবে ‘অটল খেলরত্ন খেল সম্মান’। জাতীয় স্তরের ক্লাবগুলিকে বছরে ১ কোটি টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছে।
বাংলার ক্রীড়াবিদদের নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ২০১৫ সাল থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একাধিক নিয়োগের ফাইল আটকে ছিল। রাজ্যে প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু পরিকাঠামো ও সরকারি সহযোগিতার ঘাটতিই বাংলাকে পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ আনার লক্ষ্যে দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে রাজ্যের প্রতিনিধিদের। প্রাথমিক ভাবে ১০০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি মিললেও, বিস্তারিত প্রকল্পের প্রতিবেদন দিয়ে প্রয়োজনে ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ আদায়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ দিনের অনুষ্ঠানে ১৪৫ জন কৃতী ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁদের হাতে মোট ৪ কোটি ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। ময়দানের বড় ক্লাবগুলিও পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে দু’রকমেরই আছে। আমি নিজে মোহনবাগান, আমার মা ইস্টবেঙ্গল।’




