• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 30 October, 2026

লিয়ঁর ঘূর্ণিতে শেষবেলায় ধাক্কা দক্ষিণ আফ্রিকার, চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া! চতুর্থ দিনেই ফয়সালা?

তিন টেস্টের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জিতেছিল। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছিল ইনিংস ও ৩১ রানে

লিয়ঁর ঘূর্ণিতে শেষবেলায় ধাক্কা দক্ষিণ আফ্রিকার, চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া! চতুর্থ দিনেই ফয়সালা?

Bavuma Out By Nathan Lyon Photo-X Handle

শুক্রবার শেষ বিকেলে নেথান লিয়ঁর ঘূর্ণিতে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার উইকেট পড়ে যায়। আর তাতেই কেপ টাউনে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে চালকের আসনে বসে পড়ল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৪ উইকেটে ১৪০। লিড মাত্র ৪০ রানের। হাতে রয়েছে ছ’টি উইকেট। ফলে ম্যাচের রাশ অনেকটাই প্যাট কামিন্সদের হাতে।

কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ৩৩০/৫ রান নিয়ে। জশ ইংলিস ৮৫ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বড় রান এনে দেন এই দুই ব্যাটার। পঞ্চম উইকেটে ১৮৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তাঁরা।

ইংলিস পূর্ণ করেন শতরান। ১৩২ বলে ১০২ রান করে আউট হন তিনি। অন্য দিকে, ক্যারি করেন ৮০ রান। তাঁদের ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে ৪২৯ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাইমন হার্মার ১০৪ রানে চার উইকেট নেন। মার্কো ইয়ানসেনের সংগ্রহ তিন উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা। মিচেল স্টার্কের বলে ট্রাভিস হেডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এইডেন মার্করাম। এর পর জশ হেজলউডের বলে আউট হন ডেভিড বেডিংহ্যাম। চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লড়াই শুরু করেন মারকেস অ্যাকারম্যান এবং অধিনায়ক বাভুমা। তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তাঁরা। অ্যাকারম্যান করেন ৬২ রান। স্টার্কের বলে তাঁর বিদায়ের পরেই আবার চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দিনের শেষ দিকে বাভুমাকে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেন লিয়ঁ। ১১৫ বল খেলে ৩৫ রান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। লিয়ঁর বলে বোল্ড হয়ে ফিরতেই ভেঙে যায় তাঁর প্রতিরোধ।

দিনের শেষে অপরাজিত রয়েছেন ম্যাথু ব্রিটজকে (১৯) এবং রায়ান রিকেলটন (৮)। দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১৪০/৪। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা এগিয়ে মাত্র ৪০ রানে।

 

অস্ট্রেলিয়ার শতরানকারী ব্যাটার জশ ইংলিস মনে করছেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতেই রয়েছে। আইসিসির ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, ‘শেষ সেশনে আমরা ম্যাচের গতিপ্রকৃতি খুব ভাল ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি। ওরা ভাল খেলছিল ঠিকই, কিন্তু আমাদের থেকে খুব বেশি এগিয়ে যেতে পারেনি। গাজ (নেথান লিয়ঁ) দুর্দান্ত বল করেছে। ওকে সব সময়ই বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে পরিশ্রম করার পরে শেষ দিকে তার ফল পাওয়া সত্যিই তৃপ্তির।’

দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হার্মার অবশ্য মনে করছেন, ম্যাচ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বিশেষ করে পিচের চরিত্র যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে শেষ দু’দিনে স্পিনারদের ভূমিকা অনেকটাই বাড়তে পারে।

হার্মার বলেন, ‘সকালের সঙ্গে সন্ধ্যার পিচের তুলনা করলে বোঝা যাবে, কতটা নাটকীয় ভাবে বদলে গিয়েছে উইকেট। মিচেল স্টার্ক পিচে ফুটমার্ক তৈরি করার কাজটা বেশ ভাল ভাবেই করেছে। আমার মনে হয়, প্রথম আড়াই দিনের তুলনায় শেষ দু’দিনে স্পিন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

তিন টেস্টের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জিতেছিল। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছিল ইনিংস ও ৩১ রানে। এই ম্যাচই সিরিজের নির্ধারণ করবে।

কত রান পর্যন্ত লিড নিয়ে যেতে পারে, তার উপরেই নির্ভর করছে ম্যাচের ভবিষ্যৎ। তবে শেষ বিকেলে বাভুমাকে ফিরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে যে জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন লিয়ঁ, তাতে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন কামিন্সরা।