দল লিগ টেবলের শীর্ষে। তা সত্ত্বেও সাতসকালে পদত্যাগ করে বসলেন মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ মেহরাজউইদ্দিন ওয়াডু। এই খবরে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে কলকাতা ময়দানে। এতদিন দল ব্যর্থ হলে সেই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে বহু কোচকে ইস্তফা দিতে দেখা গিয়েছে, অনেককে বিতাড়িতও করা হয়েছে। কিন্তু মেহরাজউদ্দিনের ক্ষেত্রে ঘটল ঠিক উল্টোটা।
কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের গ্রুপ বি-তে দলকে লিগ টেবলে শীর্ষে তুলে দেওয়ার পর তিন পদত্যাগ করেছেন বলে ক্লাবসূত্রে খবর। শুক্রবারই মহমেডানের খেলা রয়েছে কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। তারাও লিগ টেবলের প্রথম তিনের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু এই ম্যাচে দলের সঙ্গে সম্ভবত থাকবেন না মেহরাজ। দলের সহকারী কোচ শাহ্দ রমনই দল নামাবেন বলে খবর।
কিন্তু কেন পদত্যাগ করলেন মেহরাজ, এই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। দলের পারফরম্যান্স তো খারাপ নয়। চলতি লিগে এখন পর্যন্ত একটিও ম্যাচে হারেনি মহমেডান। আটটির মধ্যে পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। বাকি তিনটিতে ড্র। গত পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে তারা। তা সত্ত্বেও কোচ দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন কেন, এই প্রশ্ন তো উঠবেই।
ক্লাব সূত্রের খবর চুক্তিপত্র নিয়ে দ্বিমত দেখা দেওয়াতেই মেহরাজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মরসুমের শুরুতে যে চুক্তিপত্র তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, সেই চুক্তিপত্রের কয়েকটি শর্ত নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। সেই শর্তগুলিতে পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এত দিন হয়ে গেল, এখনও সেই পরিবর্তিত চুক্তিপত্র নাকি এসে পৌঁছয়নি মেহরাজের হাতে। তিনি এর মধ্যে একাধিকবার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলতে যান। কিন্তু তাঁরা এই নিয়ে নাকি কোনো আগ্রহ দেখাননি বলে অভিযোগ। সেই জন্যই কার্যত বিরক্ত হয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে খবর। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ই-মেল করে মেহরাজ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিবর্তিত চুক্তিপত্র হাতে না পেলে তিনি আর তাঁর কাজ চালিয়ে যাবেন না।
এখন কর্তারা মেহরাজকে ধরে রাখার জন্য চুক্তিপত্রে পরিবর্তন করে তাঁকে ফিরিয়ে আনবেন, না নতুন কোচ নিয়ে আসবেন, নাকি সহকারী কোচ শাহিদকেই দলের দায়িত্ব দিয়ে দেবেন, সেটাই দেখার। তবে ক্লাবের প্রশাসনিক অস্থিরতার জন্যই যে এমনটা হল, সেরকমই মনে করছেন ক্লাবের সদস্যদের কেউ কেউ। মেহরাজের চুক্তিপত্রে শর্তবদল করে তাঁকে নতুন চুক্তিপত্র তৈরি করে দেওয়ার মতো ব্যক্তিই না কি এখন ক্লাবে নেই। তা হলে কারা চালাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী মহমেডান ক্লাব এবং কারাই বা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, এই প্রশ্নই উঠছে।




