অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে বিলবোর্ড খুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ তৃণমূল। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার’ এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বেআইনি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে বিষয়টি উল্লেখ করেন তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী কিশোর দত্ত। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জিও জানান তিনি।
তৃণমুলের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্তের বক্তব্য শোনার পর মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে নিয়ম মেনে মামলা দায়ের করতে হবে। মামলা দায়েরের পর ফের এজলাসে এসে বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। তারপরেই এই মামলার শুনানি হবে।
ক্যামাক স্ট্রিটের তিন হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গা জুড়ে রয়েছে অভিষেকের অফিস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই অফিসের ছাদে থাকা ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা সাইনবোর্ড খুলতে যায় কলকাতা পুরসভা। প্রথম দফায় বাধা পেয়ে পুলিশ-পুরসভার কর্মীরা ফিরে গেলেও পরে ফের অভিযান শুরু হয়।
অভিযোগ, দ্বিতীয় দফায় অভিযান ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও পুরকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। সিঁড়িতে শুয়ে পড়ে অভিযান আটকানোর চেষ্টা করেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুলিশকর্মীদের ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে ঢুকে সাইনবোর্ড খুলে ফেলে পুরসভা।
ঘটনার জেরে পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পাশাপাশি শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। মামলাগুলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার নাম রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাখিতে ভিজবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ! উত্তরে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
অন্যদিকে, পুরসভা সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই ফের সেখানে তৃণমূলের নামাঙ্কিত ব্যানার টাঙানো হয়। অভিষেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিজেপির নির্দেশে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বেআইনি ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে পুরসভা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি জানাল তৃণমূল। তবে আদালতের নির্দেশ, আগে মামলা, পরে শুনানি।




