ফুটপাতে দুধ গরম করছিলেন। আর তার জেরে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় হচ্ছিল অসুবিধা। তাই তা দেখে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তাঁকে ধমক দিয়েছিলেন। এই ঘটনাই ‘পথের সীতা’ সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। সীতা ওরফে রশিদা সেদিন চোখের জল ফেলেছিলেন। ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু আখেরে তাঁর ভালই হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার কথা জানতে পেরে তাঁদের সরকারি আশ্রয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আচমকা সেখান থেকে উধাও হয়ে যান সীতা। যদিও পরে হদিশ মিলেছিল তাঁর। শুক্রবার জানা গেল, পছন্দের এলাকায় সীতা এবং তাঁর নাতি-মেয়েদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংসারের হাল ফেরাতে সীতার জন্য একটি ছোট কাজের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এদিন সেই সীতার, সীতার সংসারের আপডেট দিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
রাখীবন্ধনের দিনের সকালেই অগ্নিমিত্রা পাল একটি ভিডিও পোস্ট করেন নিজের সমাজমাধ্যমে। সেখানে পুরমন্ত্রী লেখেন, ‘সীতা দেবী এবং তাঁর পরিবারের জন্য তাঁদের পছন্দমতো জায়গায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, সীতা দেবীর জন্য একটি ছোট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে তাঁকে আর ফুটপাথে জীবন কাটাতে না হয় এবং পরিবার স্বনির্ভরভাবে নতুন করে পথ চলতে পারে। মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের প্রয়োজন বুঝে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করা—এটাই আমাদের সরকারের অঙ্গীকার।’ শুক্রবার জানা গেল, গত কদিন ধরে নানা এলাকায় তাঁদের জন্য বাড়ির খোঁজ করা হচ্ছিল। কিন্তু সেটা সীতাদেবীর পছন্দ হচ্ছিল না। তার জেরে তাঁদের সাময়িকভাবে রাখা হয়েছিল হোটেলে। এবার সীতার পছন্দের এলাকায় দেওয়া হয়েছে ঘর। সেখানে নাতি ও মেয়েদের নিয়ে রয়েছেন সীতা।
সীতাদেবীকে একটি হোটেলে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সাফাইয়ের কাজ করবেন তিনি। সেখান থেকে রোজগারও হবে। থাকার ব্যবস্থাও হয়েছে। সুতরাং মাথার ছাদ এবং কর্মসংস্থান মেলায় ফুটপাতে আর থাকতে হবে না। এই বিষয়ে বিধায়ক সজল ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন সীতা ও দুই মেয়ে। শুভেন্দু দা বারবার ওনাদের খোঁজ নিয়েছেন। অগ্নিমিত্রা দি খোঁজ নিয়েছেন। ওনারা ভাল আছেন। সরকার ওনাদের পাশে আছে। জীবন বদলে যাওয়ায় খুশি সীতা। শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উনি।’ আর এদিন অগ্নিমিত্রা পালের আপডেট, ‘আমি সীতাদেবীর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু সীতাদেবী পার্ক স্ট্রিটের মতো ব্যস্ত রাস্তার পাশে, যেখানে শত শত সাধারণ মানুষ যাচ্ছেন, সেখানে স্টোভে দুধ গরম করা, ফুটপাতে ঘোরাঘুরি করছিলেন। আমি সেটার বিরোধিতা করেছি। আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম। আমার বলার ধরণে অবশ্যই অন্যায় হয়েছে।’
তাছাড়া সীতার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা এবং ঘর খুঁজে দেওয়ার তথ্য জানান পুরমন্ত্রী। যেসব ফুটপাতবাসীর অনীহা শেল্টার হোমে থাকার তাদের নিয়েও মুখ খোলেন এবং উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার কথাও। বিজেপির মহিলা মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও রাখী পরিয়ে দেন। আর অগ্নিমিত্রা পাল গড়িয়াহাট মোড় দিয়ে যাওয়া পথচারী, গাড়িচালক এবং ফুটপাতবাসীদেরও হাতে রাখি পরিয়ে দেন। ফুটপাথে থাকা শিশুদেরও রাখি পরিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বর্ণপরিচয় এবং পড়াশোনার সামগ্রী। শিশুদের খাওয়ানো হয় লাড্ডুও।




