• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 28 August, 2026

‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন’, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

ভারত যে আজ প্রতিরক্ষায় অনেক এগিয়ে সে কথা জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাকিস্তান এখন চোখ তুলে তাকাতে সাহস পায় না সে কথাও জানান তিনি

‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন’, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

দেশের বাইরের শত্রুদের সেনাবাহিনী বুঝে নেবে। কিন্তু দেশের ভিতরে বসে যাঁরা ভারত ভাগের চক্রান্ত করছেন এবার রাখিবন্ধনের উৎসব থেকে তাঁদের একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের একাংশের ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বাংলা তথা দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’ লেখাকে নিয়ে বিঁধলেন ‘কাশ্মীরের আজাদি’ চাওয়া একদল উচ্ছৃঙ্খলকারীদের। কদিন আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে এবিভিপি’র সংঘর্ষে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছিল। তারপর এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিনের অনুষ্ঠানে রাখিবন্ধন উৎসবকে জাতীয়তাবাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশপ্রেম, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান, বাংলার সংগ্রামীদের লড়াই তুলে ধরেন। বাইরের শত্রুদের পাশাপাশি দেশের ভিতরে ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার ভবানীপুরের অনুষ্ঠান থেকে কড়া বার্তা দেন, ‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন। কষ্ট হয় যখন, কলকাতার রাস্তায় আজাদি স্লোগান ওঠে। কীসের আজাদি? দেশ তো কবেই স্বাধীন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা থাকে রেড স্যালুট কিষেনজি। কী শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্ম কে? কে এই কিষেনজি। যিনি দেশভাগ দাবি করে। সংবিধান না মানা কিষেনজি। পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরমে কেন আপত্তি? ভিতরে থেকে যারা আক্রমণ করে, দেশপ্রেমের রাখিবন্ধনে তাদেরকে বাড়ির আবর্জনার মতো পরিষ্কার করার শপথ নিতে হবে।’

ভারত যে আজ প্রতিরক্ষায় অনেক এগিয়ে সে কথা জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাকিস্তান এখন চোখ তুলে তাকাতে সাহস পায় না সে কথাও জানান তিনি। ভারতের সেনাবাহিনী এখন অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। তাই দেশকে ভাগ করার কাজ মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘এই উৎসবে ধর্মীয় মাহাত্ম্য, ভাই-বোনের বন্ধনের সঙ্গে মিশে গিয়েছে দেশপ্রেম। এই রাজ্য প্রভু শ্রীচৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, রানি রাসমণির লীলাক্ষেত্র। কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর— সব রয়েছে। বাইরের শত্রুদের জন্য তো আমাদের সেনাবাহিনী আছেই। ওদের ঘরে ঢুকে নাম-নিশান মিটিয়েছে বায়ুসেনা। তবে দেশের ভিতরেই অনেকে আছে। রাজ্য সরকার বাংলার সেই হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। কীসের আজাদি ভাই? কলকাতার রাস্তায় আজাদি স্লোগান উঠলে কষ্ট হয়। আপনারা সেই কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি বলবেন?’

তাছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন, ‘আপনারা কী শেখাচ্ছেন আগামী প্রজন্মকে? পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরমে আপত্তি কেন?’ পহেলগাঁওয়ের প্রসঙ্গ টেনে বাইরের শত্রুদের ‘অন্দর ঘুষকে মারা’ হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা তুলে ধরেন শুভেন্দুও। তার পরেই ভারতের ভিতরের শত্রুদের সাফাইয়ের ডাক দিয়ে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন। সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলা বিভাগের দেওয়ালে লেখা রেড স্যালুট কিষেনজি। কে এই কিষেনজি? যে ভোট বয়কটের কথা বলেছিল? যে সংবিধান মানেনি? কী শেখাচ্ছেন আগামী প্রজন্মকে? যাঁরা জনগণমন অধিনায়ক, বন্দে মাতরমকে অপমান করে, এই দেশপ্রেমের রাখিবন্ধনে তাঁদের বাড়ির আবর্জনার মতো পরিষ্কার করার শপথ নিতে হবে।’